আর্মির বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়ে ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে East Bengal

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ঠিক কী ভেবে গত ম্যাচের দলকে প্রায় পুরোই বদলে দিলেন কোচ হাবাস তা তিনিই বলতে পারবেন কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে এএফসির পর দলকে বিশ্রাম দিয়ে ডুরান্ড সেমিফাইনাল আর ফাইনালের জন্য চনমনে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও ইন্ডিয়ান আর্মি ফুটবল দলকে অতটাও হালকাভাবে নেওয়ার কোনও কারণ ছিল না। কারণ তারাও সব ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। গোল হজম করেছিল মাত্র একটি। সব মিলে হাবাস স্যার যেন নিজেকেই নিজে পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন এই ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে। রবিবার দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দিল্লি এফসির বড় ব্যবধানে জয়ের পর বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যেয় যুবভারতীতে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal), প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ান আর্মি। ১-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালে দিল্লি এফসির মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল।

যদিও ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে উঠে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তিন মিনিটে ডান দিক থেকে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে রেখেছিলেন পিভি বিষ্ণু। জায়গায় থাকলেও বরিস সিং সেই বলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেননি। এর পর ছয় মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ ড্যানিয়েল রামিরেজ। তাঁকে মাপা বল বাড়িয়েছিলেন ডেভিড। অনেকদিন পর প্রথম দলে আবার ডেভিড। এদিন একা ডেভিডকে সামনে রেখেই তাঁর নতুন দল সাজিয়েছিলেন হাবাস। গোলে ফুর্বার সঙ্গে দলে ফিরলেন লালচুংনুঙ্গা। এছাড়া বরিস সিংয়ের সঙ্গে দলে জায়গা করে নিলেন নরেন্দ্র গেহলট। প্রথম দলে মোট আটটি বদল করলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ।


তার মধ্যেই সুযোগ তৈরি করল আর্মির অভিষেক শঙ্কর। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর জোড়াল শট অল্পের জন্য বাইরে গেল। যদিও বল পজেশনে এগিয়ে থাকল ইস্টবেঙ্গলই, আক্রমণেও। ৩৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ইকোনোমিডিসের বক্সের মধ্যে শটেক নাগাল পেলেন না বিষ্ণু ঠিকই কিন্তু তাঁর এক মিনিটের মধ্যেই এই জুটিই গোলের মুখ খুলল। ঠিক একইভাবে পুরো মুহূর্তটা তৈরি হয়েছিল যুবভারতীতে। যখন সেই ইকোনোমিডিসের সেন্টারেই এবার নিজেকে প্রায় শূন্যে ভাসিয়ে হেড করলেন বিষ্ণু। প্রতিপক্ষ গোলকিপার মাল্লা ঠাকুরি চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ইস্টবেঙ্গল প্রথমার্ধ শেষ করল ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই।

হাবাস দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করল পিভি বিষ্ণুকে তুলে বিপিন সিংকে নামিয়ে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইকোনোমিডিসের জায়গায এডমুন্ড আর  ডেভিডের জায়গায় জেসিন টিকেকে নামিয়ে ক্রমশ এই মরসুমের এখনও পর্যন্ত চেনা দলে ফিরতে শুরু করলেন। এর পর একে একে সন্দীপ মান্ডি, জিকসনরাও ফিরলেন। তবে এতদিন যেভাবে সিআইএসএফ হোক বা সাউথ ইউনাইটেড, যাদের গোলের মালা পরিয়েছিল কলকাতার দুই দল, তার থেকে যে ইন্ডিয়া আর্মি অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ তা স্কোরলাইনেই পরিষ্কার। ৭৩ মিনিটে প্রায় গোল করেই ফেলেছিল আর্মি। ফুর্বা বল ফিস্ট করলেও ত দখলে রাখতে পারেনি। তবে অল্পের জন্য বিপদমুক্ত হয় ইস্টবেঙ্গল। ফুর্বার সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আর্মির লিটন।

পরিবর্ত হিসেবে নেমে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করল বিপিন, জেসিন জুটি। কিন্তু একাধিক সুযোগ নষ্ট করে গোল ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। কখনও বিপিন থেকে বল পেয়ে জেসিন বাইরে পাঠালেন আবার কখনও জেসিনের পাঠানো বল ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে পাঠালেন বিপিন। অতিরিক্ত সময়ে সেই অভিষেক শঙ্কর যিনি শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন শেষ বেলায় প্রায় গোলের মুখ খুলে ফেলেছিলেন, যদি না মাথার উপর দিয়ে সেই বল বাইরে পাঠাতেন ফুর্বা। শেষবেলায় পেনাল্টি পেতে পারত আর্মি। বক্সের মধ্যে হাত দিয়ে বল পায়ে এগিয়ে আসা প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে ফেলে দেন ফুর্বা। কিন্তু রেফারির নজরে তেমনটা মনে হয়নি। আর্মির পক্ষ থেকেও খুব বেশি আবেদন করা হয়নি। এত সবের মধ্যেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ১-০ গোলে জিতেই সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড।

ইস্টবেঙ্গল: ফুর্বা টেম্পা লাচেনপা, জয় গুপ্তা, নরেন্দ্র গেহলট, লালচুংনুঙ্গা, বরিস সিং (সন্দীপ মান্ডি),  ক্রিস্টোফার ইকোনোমিডিস (এডমুন্ড লালরিনডিকা), রোহিত কুমার (জিকসন সিং), ড্যানিয়েল রামিরেজ, মহম্মদ রশিদ, পিভি বিষ্ণু (বিপিন সিং), ডেভিড লালহানসাঙ্গা (জেসিন টিকে)

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle