গোল ব্যবধান কমলেও সাউথ ইউনাটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে গোল পার্থক্য বাড়িয়ে নিল East Bengal FC

সুচরিতা সেন চৌধুরী: শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই রামিরেজের গোল মিস দিয়ে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC)। ডুরান্ড কাপে সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৮-০ গোলে জিতেছিল মোহনবাগান। সেই দলের বিরুদ্ধেই শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল যাদের তালিকায়ও ইতিমধ্যেই রয়েছে একটি ৮-০ গোলের ম্যাচ। যতো বড় ব্যবধানে জয় আসছে কলকাতার দলের ততই ডুরান্ডের মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই দলের বিরুদ্ধে সাত মিনিটেই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের প্রথম গোল এল ছয় মিনিটে। যখন ডান দিক থেকে রশিদের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে সরাসরি রামিরেজের বাঁ পায়ের শট চলে গেল গোলে। দ্বিতীয় গোল পেতে ইস্টবেঙ্গলের লাগল ২৩ মিনিট। বরং আগের দিনের থেকে এদিন কিছুটা ফুটবল খেলল সাউথ ইউনাইটেড। যার ফলে গোল হজমের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে ৫-০ হল।

রামিরেজের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হালকা করে মাথা ছুঁয়ে রশিদকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন জেসিন টিকে। উড়ে আসা বলেই রশিদের হেড চলে গেল সাউথ ইউনাইটেডের গোলে। ৬ মিনিটে গোল করিয়ে, ২৩ মিনিটে নিজে গোল করে ২-০ করলেন রশিদ। কিন্তু তার পরেই বিষ্ণু যে নিশ্চিত গোল নষ্ট করলেন তা কোচ হাবাসকে উত্তেজিত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। হতাশায় রীতিমতো হাত-পা ছুঁড়তে দেখা গেল তাঁকে।২৯ মিনিটে রামিরেজের মাপা পাস থেকে ছোট বক্সের কাছে পৌঁছেও গোলকিপারকে একা পেয়ে গোলের উপর দিয়ে বাইরে পাঠালেন বিষ্ণু। এই মিস করে নিজেও মাথায় হাত দিলেন তিনি।


৪০ মিনিটে প্রথম সাউথ ইউনাইটেডকে আক্রমণ করতে দেখা গেল। আলতাব হুসেনের গোলমুখি শট হাত থেকেও ফসকে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলে গোলকিপার গৌরব শ। তবে গোল হয়নি শেষ পর্যন্ত। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও বিষ্ণুর গোলমুখি শট ফিস্ট করে দিলেন সুনীল সিং। ২-০ গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে ইস্টবেঙ্গল দলে জোড়া পরিবর্তন করে। বিষ্ণুর জায়গায় বিপিন আর নাচোর জায়গায় জয় গুপ্তকে নামান হাবাস। তার মধ্যেই জিকসনের শট পোস্টে লেগে বাইরে গেল। এর মধ্যেই ফাঁকা গোল পেয়ে গিয়েছিল সাউথ ইউনাইটেড, বেরিয়ে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার, তাও বাইরে পাঠালেন ড্যানিয়েল।

তবে ইস্টবেঙ্গল গোলের ব্যবধান বাড়াল প্রতিপক্ষের গোলকিপারের ভুলে। ৭৩ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন হার্দিক ভাট। সেই বল ধরেই ফসকালেন সাউথ ইউনাইটেডের গোলকিপার সুনীল। এদিকে যখন রামিরেজকে তুলে ডেভিডকে নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হল তখন ঘটল এক অদ্ভত ঘটনা। পরিবর্ত প্লেয়ার রামিরেজ মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও ডেভিডকে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হল বেশ অনেকটা পরেই। তাতে যদিও কিছু বদলালো না।

৮১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে অভিষেক হওয়া ইকনোমেডিসের সেন্টার বক্সের মধ্যে থেকে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছিলেন ঋষিক শেট্টি কিন্তু সেটা পুরোপুরি ক্লিয়ার না হলে গোল করে যান বিপিন সিং। আর শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগেই ৫-০ করেন পরিবর্ত ডেভিড। ডেভিডের গোলটা আইসিং অন দ্য কেক, যেভাবে চারজন ডিফেন্ডারের মধ্যে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শট গোলে পাঠালেন তিনি। লিগ পর্বের ম্যাচ শেষে তিন ম্যাচে ১৩ গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে গোল পার্থক্য বাড়িয়ে রাখল ইস্টবেঙ্গল।

ইস্টবেঙ্গল এফসি: গৌরব শ, হার্দিক ভাট, নাচো (জয় গুপ্তা), সন্দীপ মান্ডি, আনোয়ার আলি, মহম্মদ রশিদ, পিভি বিষ্ণু (বিপিন সিং), জিকসন সিং (রোহিত কুমার), জেসিন টিকে (জেমস ইকোনোমিডিস), ড্যানিয়েল রামিরেজ (ডেভিড), এডমুন্ড