সুচরিতা সেন চৌধুরী: এই ইস্টবেঙ্গল অন্য লাল-হলুদ। এই ইস্টবেঙ্গল স্বপ্ন দেখায় বড় সাফল্যের, ধারাবাহিক পারফর্মেন্সের। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়তে পড়তে যখন একটা দল ঘুরে দাঁড়ায় তখন তারা এভাবেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ ইস্টবেঙ্গল এফসি। কোচ হাবাস যেন রীতিমতো অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটাচ্ছেন। জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক, একই গতিতে ছুটছে দলটা। বদলে গিয়েছে বডি ল্যাঙ্গুয়েজটাই। যার ফল ঘরের মাঠে এসিএল ২ (ACL 2)-এর যোগ্যতা অর্জনের পর বিদেশের মাটিতেও প্রায় বাজিমাত করে ফেলেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু বাধ সাধল সেই পুরনো রোগ, এগিয়ে গিয়েও আটকে যাওয়া, হেরে যাওয়া। বুধবার জর্ডনের আম্মান আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জেতা ম্যাচ ফেলে এল ইস্টবেঙ্গল। এদিনও ২-০ গোলে জেতা ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র করে একরাশ হতাশা নিয়ে ফিরছে দল। যা হাবাসের কপালের বাঁজ চওড়া করার জন্য যথেষ্ট।
ভারতীয় সময় ঠিক ৯.৩০-এ খেলা শুরু হয়। আর প্রথম থেকেই ম্যাচের দখল নিয়ে নেন আনোয়ার, রশিদরা। যার ফল শুরুতেই গোল করে প্রতিপক্ষ হোম টিম আল হুসেনকে চমকে দেয় ইস্টবেঙ্গল।খেলা তখন সবে ৯ মিনিটে পা দিয়েছে। বল নিয়ে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড। ডুরান্ড কাপ ফাইনাল ডার্বির অন্যতম নায়ক তিনিই। তবে তাঁর গোল লক্ষ করে নেওয়া শট আল হুসেন গোলকিপার ইয়াজেদ আবুলায়লা দক্ষতার সঙ্গে ফিস্ট করে দেন। কিন্তু বল নিজের দখলে রাখতে না পারার খেসারত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দিতে হল তাঁকে। ফিরতি বলে দানি রামিরেজের শট চলে গেল গোলে। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। যার ফল প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া।
এদিন ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে অভিষেক হয়ে গেল দিয়েগো জিভুলিকের। তাঁকে প্রথম দলে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন কোচ হাবাস। বিশাল কিছু নজর কাড়তে না পারলেও বোঝাই যাচ্ছে হাবাসের মন কেড়েছেন ইতিমধ্যেই। এদিন অবশ্য গোল করে ও করিয়ে নিজেক আবার চেনালেন দানি রামিরেজ। তাঁর মাপা কর্নারেই মাথা ছুঁয়ে ৪০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২-০ করলেন আনোয়ার আলি। বিদেশের মাটিতে ২-০ গোলে এগিয়ে যে দল হাফটাইমে যায় তার থেকে কী আশা করতে পারেন ফ্যানেরা। ধরে নেওয়ায় যায় দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভালো ফুটবল খেলবে দল। গোলের ব্যবধান বাড়ুক না বাড়ুক জয় নিয়েই ফিরবে। কিন্তু এক্ষেত্রে এক্কেবারেই অন্য কাহিনী লেখা হল আম্মাম স্টেডিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল দুই দলই। যখন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগলেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা তখন তারই সুযোগ নিয়ে সমতায় ফির আল হুসেন।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিট বাদ দিলে পুরোটাই খেলল হোমটিম। সেখানে একটা সময় মনে হচ্ছিল। তিন নম্বর গোলটা না খেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। তবে না, তেমনটা হয়নি। ৬১ মিনিটে মারদির গোল লক্ষ্য করেন নেওয়া শট বাক খেয়ে ঢুকে যায় গোলে। ঝাঁপালও বলের নাগাল পাননি গিল। ব্যবধান কমিয়ে রীতিমতো ইস্টবেঙ্গল বক্সে তান্ডব চালাতে শুরু করেন আল হুসেন ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরো সময়টাই খেলা হয় ইস্টবেঙ্গল বক্সে। লাল-হলুদের পক্ষে কোনও আক্রমণ উঠে আসেনি, রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পরে পুরো দল।
তার মধ্যে পাঁচি পরিবর্তন করেন হাবাস, আসিফকে তুলে বিপিন, হার্দিককে তুলে নরেন্দ্র গেহলট, জয় গুপ্তার জায়গায় রোহিত দানু, দানির জায়গায় রেনিয়ের ও এডমুন্ডের জায়গায় ডেভিডকে নামিয়ে দলে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তাতে সুরাহা কিছু হয়নি। ৮৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে সব আশায় জল ঢেলে দেয় ইস্টবেঙ্গল। আল হুসেনের হয়ে পরিবর্ত হিসেবে নামা দুই ফুটবলারের যুগ্ম প্রচেষ্টায় সমতায় ফেরে তারা। ৮৭ মিনিটে ওবেইদার ক্রস থেকে আহমেদ আসাফের আসাধারণ ফিনিশের সঙ্গেই ফিনিশিং টাচটাও হয়ে যায় এই ম্যাচের। শেষবেলায় যেভাবে ঝাঁপাল তাতে জিতেও যেতে পারত আল হুসেন। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে দুটো গোল ছাড়া বলার মতো প্রথমার্ধে এডমুন্ডের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট।
এর পর ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গল খেলবে আল শোর্তার বিরুদ্ধে। ম্যাচ শেষে দানি রামিরেজ বলেন, “আমি পুরোপুরি খুশি নই কারণ আমি ভেবেছিলাম আমরা জিততে পারি। ওরা শেষে গোল তুলে নিল তবে আমরা এশিয়া পর্যায়ে খেলার যোগ্য।”
ইস্টবেঙ্গল: প্রভুসুখান গিল; হার্দিক ভাট (নরেন্দ্র গেহলট), আনোয়ার আলি, দিয়েগো জিভুলিক, জয় গুপ্তা (রোহিত দানু), সন্দীপ মান্ডি; জিকসন সিং, মহম্মদ রশিদ (অধিনায়ক); ড্যানিয়েল রামিরেজ ফার্নান্দেজ (রেনিয়ের ফার্নান্ডেজ), মহম্মদ আসিফ (বিপিন সিং); এডমুন্ড লালরিন্দিকা (ডেভিড)
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
