আফগানিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার Shapoor Zadran ভারতের হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন

Shapoor Zadran

আফগানিস্তানের প্রাক্তন পেসার শাপুর জাদরান (Shapoor Zadran), যিনি বর্তমানে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাঁর জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বর্তমানে ‘হেমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (HLH)—নামক একটি বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ বা ইমিউন ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে লড়ছেন; তাঁকে সাহায্য করার জন্য জাদরানের পরিবার ‘এ-পজিটিভ’ (A-positive) গ্রুপের রক্তদাতাদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডে এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা জাদরান বর্তমানে স্টেজ ফোর HLH নিয়ে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে তীব্র প্রদাহ বা ‘হাইপারইনফ্লামেশন’ দেখা দেয়, যার ফলে অস্থিমজ্জা, যকৃৎ (লিভার), প্লীহা এবং লিম্ফ নোডসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।

জাদরানের ছোট ভাই গামাই জাদরান ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছেন। সেই বার্তায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তারা প্রয়োজনীয় রক্তদানের মাধ্যমে এই ক্রিকেটারকে সাহায্য করেন; তাদের এই সহায়তা জাদরানের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার পথে সহায়ক হবে।


গামাই লিখেছেন, ‘‘আমার ভাই এবং আমাদের জাতীয় বীর শাপুর জাদরান বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। আপনাদের সবার প্রার্থনার ওপর ভরসা রেখেই আমরা আমাদের এই জাতীয় বীরের পাশে দাঁড়িয়েছি। শরীরে রক্তের তীব্র ঘাটতি এবং জরুরি প্রয়োজনের কারণে, তার এখন অবিলম্বে রক্তের প্রয়োজন।’’

গত বছরের অক্টোবর মাসে শাপুর প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রশিদ খান এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (ACB) চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফের সার্বিক সহযোগিতায় শাপুরের ভিসাপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং গত ১৮ জানুয়ারি তাঁকে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত মার্চের শেষের দিকে করা অস্থিমজ্জা বা ‘বোন ম্যারো’ পরীক্ষার ফলাফলে শাপুরের শরীরে চতুর্থ ধাপের HLH-এর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এক সাক্ষাৎকারে গামাই বলেন, ‘‘চিকিৎসক আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন আমরা নিয়মিত বিরতিতে শাপুরকে নিয়ে হাসপাতালে এসে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। প্রায় ২০ দিন ধরে শাপুর বেশ ভালোই বোধ করছিল, কিন্তু এরপরই তিনি আবারও নতুন করে একটি সংক্রমণের শিকার হন। তখন আমরা তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করি।’’

গামাই আরও বলেন, ‘‘তার শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, কারণ তার রক্তে লোহিত রক্তকণিকার (RBC) পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। তার শরীরে এখন খুব একটা জীবনীশক্তি অবশিষ্ট নেই। তবে আমরা আশা করছি যে, দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। সম্প্রতি শাপুরকে যে স্টেরয়েডগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বেশ কার্যকর বলেই মনে হচ্ছে; আর এই বিষয়টিই আমাদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।’’

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle