পুলিশ জানিয়েছে যে, কেপ টাউন শহরের একটি বাড়িতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার জেইডেন অ্যাডামসের (Jayden Adams) মৃতদেহ উদ্ধারের পর তারা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছতে সহায়তা করার দুই সপ্তাহ পরেই ২৫ বছর বয়সী অ্যাডামস মারা যান। কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশ করেনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে পাঠানো এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, ‘‘শনিবার ২৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধারের পর কেপ টাউন সেন্ট্রাল পুলিশ তদন্তের জন্য একটি অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে। এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তাধীন রয়েছে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে কেপ টাউনের শচে ক্লুফ (Schotsche Kloof) এলাকার একটি বাড়িতে মৃতদেহটি পাওয়া যায়, তবে তারা এ বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। অ্যাডামসের বাবা জুয়ানিটো অ্যাডামস রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি ‘ইএনসিএ’-কে জানান যে, পরিবারটি ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আছে এবং এখনও শেষকৃত্যের কোনও পরিকল্পনা করেনি।
জুয়ানিটো অ্যাডামস বলেন, ‘‘আপনারা সবাই জানেন, এটি একটি অকাল মৃত্যু। পরিবার এই ঘটনাটি মেনে নেওয়ার বা সামলে ওঠার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। জীবন চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। মানুষ বলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কষ্ট কমে আসে, কিন্তু আসলে তা হয় না। আপনি কেবল এর সঙ্গেই বেঁচে থাকতে শিখে যান।’’
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা পারফরম্যান্সের সময় দলের তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই অ্যাডামস খেলেছিলেন। তবে ২৮ জুন ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এ কানাডার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে তিনি খেলেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জি জানান, নিজের দিদার মৃত্যুর খবর জানার কয়েক ঘণ্টা পরেই অ্যাডামস চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দলের গ্রুপ ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। ম্যাকেঞ্জি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা “সংযম ও সহমর্মিতা” প্রদর্শন করেন এবং কর্তৃপক্ষ তদন্ত চলাকালীন অ্যাডামসের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান বা জল্পনা-কল্পনা না করেন।
শনিবার ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে এবং আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড—বিশ্বকাপের এই দু’টি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে অ্যাডামসের স্মরণে নীরবতা পালন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
