রাঁচি ঘুরে অবশেষে ফুটবল-পাগল শহর কলকাতায় এসে পৌঁছল ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের (Durand Cup 2026) ঐতিহ্যবাহী ট্রফি। এর ফলে আগামী ২৫শে জুলাই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে পাঁচ রাজ্যের মেগা ‘ট্রফি ট্যুর’ সফলভাবে শেষ হল। শহরের এওআই বিজয় দুর্গে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে ট্রফিগুলো প্রদর্শিত হয়, আর সেই সঙ্গেই শহরে ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরুর দামামা বেজে গেল।
এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মাননীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ এবং ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং, রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ, ক্রীড়া ও সমবায় দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী রাজেশ পাণ্ডে, বেঙ্গল সাব এরিয়ার জিওসি এবং আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং সহ সেনা ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং ফুটবল জগতের বিশিষ্টজনেরা।
”গ্যালারি ভরিয়ে তুলুন”, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মন্ত্রীর আবেগঘন ডাক
অনুষ্ঠানে ডঃ ইন্দ্রনীল খান বলেন, “উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল-সহ এবারের ডুরান্ড কাপের ১৬টি ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়ে কলকাতা সত্যিই গর্বিত। আমাদের রাজ্যের প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে এটি অত্যন্ত সম্মানের। সদ্য সমাপ্ত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তের ক্লাবকে সমর্থন করেছি। এবার সময় এসেছে একজোট হয়ে ভারতীয় ফুটবল এবং আমাদের নিজেদের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর। আমি সমস্ত ফুটবল-পাগল দর্শকদের কাছে আবেদন করব, প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত আপনারা গ্যালারি ভরিয়ে তুলুন, কারণ গ্যালারির অটুট সমর্থনের চেয়ে বড় কোনো অনুপ্রেরণা খেলোয়াড়দের কাছে হতে পারে না।”
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশিষ্টজনেদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর অডিও-ভিস্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ডুরান্ড কাপের গৌরবময় ইতিহাস এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে ট্রফি উন্মোচনের ঝলক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বলিউড অভিনেতা জন আব্রাহামের একটি বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাও শোনানো হয়।
কলকাতা: ফুটবলের মক্কা এবং ডুরান্ডের প্রাণকেন্দ্র
ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং বলেন, “ভারতীয় সেনার কাছে ডুরান্ড কাপ অত্যন্ত আবেগের একটি স্পোর্টিং ইভেন্ট এবং সেনা-নাগরিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০১৯ সাল থেকে কলকাতা এই টুর্নামেন্টের প্রধান আয়োজক শহর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, কারণ এই শহরে ফুটবল শুধু একটা খেলা নয়, একটা জীবনযাত্রা।”
রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী রাজেশ পাণ্ডে বলেন, “ডুরান্ড কাপের উত্তরাধিকার সত্যিই অনন্য। মেগা ‘কলকাতা ডার্বি’ দিয়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ভেবে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমি নিশ্চিত, গোটা রাজ্যের ফুটবলপ্রেমীরা এই মহারণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট সফল করতে ভারতীয় সেনার পাশে থাকতে পেরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গর্বিত।”
নজর এবার ২৫ জুলাইয়ের মেগা ডার্বিতে!
২০১৯ সালে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর থেকে কলকাতা বরাবরই ডুরান্ড কাপের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আগামী ২৫শে জুলাই বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রেকর্ড ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল এফসির মধ্যে আইকনিক ‘কলকাতা ডার্বি’ দিয়ে ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের মহাযুদ্ধ শুরু হচ্ছে।
গ্রুপ এ: এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে রয়েছে সাউথ ইউনাইটেড এফসি এবং সিআইএসএফ প্রোটেক্টরস।
গ্রুপ বি: অন্যদিকে এই গ্রুপে লড়বে মহমেডান এসসি, ইন্ডিয়ান আর্মি ফুটবল টিম, বাগপত এফসি এবং সমলেশ্বরী স্পোর্টিং।
গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি একটি কোয়ার্টার ফাইনাল, একটি সেমিফাইনাল এবং ২৩ অগস্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে কলকতয়।
ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং জানান, ২০৩২ সাল পর্যন্ত ইস্টার্ন কমান্ডের অধীনে ডুরান্ড কাপের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের।
উল্লেখ্য, ১৮৮৮ সালে শুরু হওয়া ডুরান্ড কাপ বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম চলমান ফুটবল প্রতিযোগিতা।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
আগামী ২৫শে জুলাই থেকে ২৩শে আগস্ট পর্যন্ত কলকাতা, রাঁচি, গুয়াহাটি, শিলং এবং ইম্ফলে অনুষ্ঠিত হবে এবারের টুর্নামেন্ট। শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল সহ মোট ২৪টি দল ৬টি ভেন্যুতে মোট ৪৩টি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে।
