MBSG vs CFC Preview: সুযোগ তৈরি করেও গোল না পাওয়ার ভুল থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি মোহনবাগানের

আইএসএলের পরবর্তী ম্যাচে (MBSG vs CFC Preview) চেন্নাইয়িন এফসি-র বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে দলের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান কোচ দিমপেরিস। আগের ম্যাচগুলিতে সুযোগ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে তাঁর কথায়। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই দল মাঠে নামবেন বলে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

কোচের মতে, দলের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে সুযোগ তৈরি করার পরও গোল করতে না পারা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দলের বিরুদ্ধে তাঁর দল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল, একাধিক সুযোগও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে আসেনি। সেই জায়গাতেই উন্নতি করতে চাইছে দল।


তিনি বলেন, চলতি মরসুমে তাঁরা ইতিমধ্যেই শক্তিশালী দুই দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। ফলে প্রতিটি ম্যাচ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও পেয়েছে দল। তাঁর লক্ষ্য, ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি সেই আধিপত্যকে গোল এবং শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টে পরিণত করাটাই অভ্যেসে নিয়ে আসতে হবে।

বিরতির পর আবার মাঠে ফিরছে দল। এই বিরতিতে দলের অনুশীলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে খেলার গতি বাড়ানো এবং কাউন্টার অ্যাটাকের ক্ষেত্রে উন্নতির উপর। কোচ জানান, বল পজেশনে দলের কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ভুল হচ্ছে। সহজ পাসের জায়গায় কখনও কখনও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সেই ভুল কমানোর জন্য অনুশীলনে বিশেষ কাজ হয়েছে।

তাঁর কথায়, দলের খেলার গতি বাড়ানোই অন্যতম লক্ষ্য। আক্রমণ, রক্ষণ এবং বল দখল—সব ক্ষেত্রেই আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনুশীলনে ফুটবলারদের প্রতিক্রিয়াতেও সন্তুষ্ট কোচ। তাঁর মতে, খেলোয়াড়রা নির্দেশ মেনে নিজেদের উন্নত করার চেষ্টা করছেন এবং এই মানসিকতাই দলের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

দীর্ঘ আইএসএল মরসুমে টানা ম্যাচ, চোট এবং ক্লান্তি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সেই কারণে কোনও ম্যাচকে হালকা ভাবে নেওয়ার পক্ষপাতী নন কোচ। তাঁর দর্শন, সামনে কতগুলি ম্যাচ রয়েছে সেটা না ভেবে পরবর্তী ম্যাচটিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা। কে সম্পূর্ণ সুস্থ, কে ভালো ফর্মে এবং কে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত—তার ভিত্তিতেই একাদশ বেছে নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, মরসুমের শেষ ম্যাচের মতোই প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চান তিনি। যদিও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় আপুইয়াকে পাচ্ছে না দল। চৌট রয়েছে মিগুয়েল আর জেমি ম্যাকলারেনেরও। যদিও এদিন একাই একাই আলাদা অনুশীলন করতে দেখা গেল জেনিকে। তবে অনুশীলনে ছিলেন না মিগুয়েল। এই তিনজনকে ছাড়াই আপাতত ঘুঁটি সাজাতে হবে দিমপেরিসকে।

চেন্নাইয়িন এফসি সম্পর্কে কোচের মূল্যায়নও যথেষ্ট ইতিবাচক। প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসা করে তিনি জানান, চেন্নাইয়িনের নিজস্ব খেলার ধরন রয়েছে এবং দলে ভালো মানের ফুটবলারও রয়েছেন। তাঁর মতে, চেন্নাইয়িনকে কোনওভাবেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে না। বরং দুই দলের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে।

চলতি আইএসএলকে তিনি কয়েকটি স্তরে ভাগ করে দেখছেন। তাঁর মতে, কিছু দল অত্যন্ত শক্তিশালী, কিছু দল মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও যথেষ্ট ভালো এবং এমন কিছু দল রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে সহজে জয় পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় কোনও প্রতিপক্ষকেই অবহেলা করার সুযোগ নেই।

মোহনবাগান কোচের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, খেলোয়াড়রা দলের প্রয়োজনে নিজেদের স্বাভাবিক পজিশনের বাইরে খেলতেও প্রস্তুত। তাঁর মতে, এই মানসিকতা দলের জন্য বড় শক্তি। যা ইতিমধ্যেই প্রমান করেছেন ফুটবলাররা।

মরসুমের শুরু থেকে দলের রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স নিয়েও কোচ সন্তুষ্ট। তাঁর মতে, দল ভালো রক্ষণ করতে পারছে এবং একইসঙ্গে নিয়মিত গোলের সুযোগও তৈরি করছে। তবে সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আক্রমণভাগের এই জায়গায় উন্নতি করতে পারলে দলের ফলাফলও বদলে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে তাই লক্ষ্য পরিষ্কার—শুধু ভালো ফুটবল নয়, সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে তিন পয়েন্ট অর্জন করা।

এদিকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল অনিরুদ্ধ ছাপার আত্মবিশ্বাসকেও অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সঙ্গেবড় মাপের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা যে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়, তা স্বীকার করে নিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক বা বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার পর ক্লাবের সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নামলে নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে আরও বিশ্বাস তৈরি হয় বলেই মনে করছেন তিনি।

তাঁর কথায়, বড় দলের দুর্দান্ত ফুটবলারদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে নিজেরা কী করতে পারেন, সেটা বোঝা যায়। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী ম্যাচগুলিতে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তাঁর নিজের নয়, দলের অন্যান্য ফুটবলারদের মধ্যেও এই অভিজ্ঞতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি।

প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়নের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্কের কথাও উঠে‌ এসেছে। ওই ফুটবলারের মতে, চেন্নাই তাঁর ফুটবলার এবং মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। দীর্ঘ সময় চেন্নাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ক্লাবের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রত্যাশার সঙ্গে তিনি গভীরভাবে পরিচিত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, চেন্নাইয়ের মতো ক্লাবে খেলার চাপই তাঁকে আরও ভালো ফুটবলার হতে সাহায্য করেছে।

তবে তিনি তাঁর বর্তমান দল প্রসঙ্গে বলেন, এই ক্লাবে গড়পড়তা পারফরম্যান্স দিয়ে টিকে থাকা যায় না। ক্লাবের ইতিহাস এবং সমর্থকদের প্রত্যাশার কারণে প্রত্যেক ফুটবলারকেই সেরাটা দিতে হয়। সেই চ্যালেঞ্জই তাঁকে প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করার অনুপ্রেরণা দেয়।

আধুনিক ফুটবলে খেলার ধরন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে হলে গোল করতেই হবে—এই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর মতে, দলের নির্দিষ্ট গেম প্ল্যান রয়েছে এবং প্রত্যেক ফুটবলারকেই সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। তবে মাঠে এমন পরিস্থিতিও আসে যেখানে ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া যায়।

দলের একাধিক ফুটবলারের সেই ক্ষমতা রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। ফলে শুধু একজন বা দু’জনের উপর গোল করার দায়িত্ব নির্ভর করছে না। তিনি এও বিশ্বাস করেন, গোল করার দায়িত্ব শুধু স্ট্রাইকারদের নয়। অতীতে দলের স্ট্রাইকাররা যেমন গোল করেছেন, তেমনই অন্য পজিশনের ফুটবলাররাও গোল করার সুযোগ তৈরি করেছেন।

মিডফিল্ডারদের কাছ থেকেও গোল আসার প্রত্যাশা রয়েছে। এমনকি সেট-পিস বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে ডিফেন্ডাররাও গোল করতে পারেন। তাঁর মতে, দল যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারে এবং সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে শুধু আক্রমণভাগ নয়, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ থেকেও গোল আসবে।

চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে তাই লক্ষ্য একটাই—গেম প্ল্যান মেনে খেলতে হবে, নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে হবে। আর এখানেই কোচের সুরে সুর মিলে যাচ্ছে ফুটবলারদেরও।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google