আইএসএল ২০২৩-২৪-এ হারের হ্যাটট্রিক করে বছর শেষ করল মোহনবাগান

Juan Ferrando

সুচরিতা সেন চৌধুরী: আইএসএল ২০২৩-২৪ শীতের রাতে ঘরের মাঠে দলকে সমর্থন করতে এসেছিলেন প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ দর্শক। হারের হ্যাটট্রিক নিয়ে ফিরতে হল তাঁদের। অন্যদিকে কলকাতায় থাকা কেরালিয়ানরা উৎসব করতে করতে মাঠ ছাড়লেন। বুধবার বছরের শেষ ম্যাচ খেলতে যখন নেমেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট তখন তাদের সঙ্গে ছিল পর পর জোড়া হার। মরসুমের শুরু থেকে দাপট দেখানোর পাশাপাশি আইএসএল ২০২৩-২৪-এর শুরু থেকেও অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখেছিল কলকাতার এই দল। কিন্তু মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ঘটনা বহুল ম্যাচে প্রথম হারের মুখ দেখতে হয় তাদের। তার পর বড় হার ঘরের মাঠেই এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। সব মিলে এই ম্যাচ সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের কাছে ছিল মাস্ট উইন। কিন্তু ০-১ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হল। আরও একবার সেই পুরনো কথাটাই সত্যি প্রমাণিত হল। যার রিজার্ভ বেঞ্চ যত ভাল সেই দল তত শক্তিশালী।

এদিন যে দাপট প্রথম থেকে দেখানোর কথা ছিল মোহনবাগানের সেটা দেখাল কেরালা ব্লাস্টার্স। শুরু থেকেই তারা মোহনবাগান বক্সে ঝড় তুলল। ম্যাচের তিন মিনিটের মধ্যেই আশিস রাই বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সেই বল ধরেই গোলে শট নিলেও তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন কেরালার অন্যতম ফরোয়ার্ড দিয়ামান্তাকোস দিমিত্রিয়স। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য তিনি তাঁর ভুল শুধরে নিয়ে কেরলের হয়ে গোলের মুখ খুলে ফেলেন।


৯ মিনিটেই ১-০ গোলে দলকে এগিয়ে দেন দিয়ামান্তাকোস। শুধু গোল করেননি, রীতিমতো মোহনবাগান রক্ষণকে নিয়ে ছেলে খেলা করলেন তিনি। তাঁর দৌঁড়ে পর পর কেটে গেলেন দীপক টাংরি, হেক্টর ইউয়েস্তে, আশিস রাই। ততক্ষণে কেঁপে গিয়েছে মোহনবাগান গোলকিপারও। তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সহজেই মোহনবাগান জালে বল জড়ালেন গ্রিসের এই ফরোয়ার্ড। তার আগে পরেও একাধিক সুযোগ এল কেরলের কাছে। ৬ মিনিটে কাওমে পেপরা ও রাহুল প্রভীন নিজেদের মধ্যে পাস খেলে পৌঁছে গিয়েছিলেন মোহনবাগান বক্সে। কিন্তু ফাইনাল বল ধরার আগেই পরে যান প্রভীন। প্রথমার্ধের শেষ সুযোগটি আসে ৪০ মিনিটে। সেই পেপরার থেকেই, কিন্তু প্রথমার্ধে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি কেরালা ব্লাস্টার্স।

মোহনবাগানের প্রথমার্ধ শুধুই মাঝমাঠ থেকে রক্ষণের ব্যর্থতা। মাঝমাঠ থেকে খেলাটাই তৈরি করতে পারল না বাগানের সারথীরা। তাই গোল করার মতো বলও পেলেন না স্ট্রাইকাররা। অন্যদিকে, কেরালার ফরোয়ার্ডরা আক্রমণে উঠলেই বাগান রক্ষণে ত্রাহিত্রাহি রব দেখা গেল। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু পরিবর্তন করলেন হুয়ান ফেরান্দো। কামিংসের জায়গায় সাদিকু, দীপক টাংরির জায়গায় হামতে, সুমিত রাঠির জায়গায় মনবীর সিংকে নামিয়ে গোলের মুখ খোলার চেষ্টা করলেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগও পেল মোহনবাগান। ৪৯ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ওঠা হুগো বুমৌসের মাপা শট বাইরে পাঠালেন জেসন কামিংস। বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিকও গোলের উপর দিযে আকাশে উড়িয়ে দিলেন। আরও বেশ কিছু আধা সুযোগও তৈরি হল কিন্তু কাজের কাজ কিছু হল না। বক্সের কাছে গিয়েও খেই হারালেন প্লেয়াররা। দলের মধ্যে বোঝা-পড়ার অভাবটা ভীষণভাবে প্রকট হয়ে উঠল। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই অফ-কালার ছিল কেরালা ব্লাস্টার্সও। কিন্তু সেই সুযোগ নিতে ব্যর্থ মোহনবাগান।

এদিন মনবীরকে প্রথম একাদশে না রেখে কিয়ান নাসিরিকে রেখেছিলেন ফেরান্দো। কিন্তু পুরো ম্যাচে একসময়ের বড় ম্যাচের নায়ককে খুঁজেই পাওয়া গেল না। দলের একাধিক প্লেয়ার চোটের কবলে। কারও আবার কার্ড। সব মিলে মূল দলের ৯০ শতাশ প্লেয়ার নেই। এই কঠিন সময়েই বোঝা যায় রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি। যেখানে শূন্য পাবে ফেরান্দোর দল। ফেরান্দো অনেক কিছুই করেছেন কিন্তু আসল কাজটাই করেননি, তৈরি করেননি রিজার্ভ বেঞ্চকে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। পর পর তিন ম্য়াচ জিতে টেবল টপে পৌঁছে গেল কেরালা ব্লাস্টার্স।

মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, আশিস রাই, হেক্টর ইউয়েস্তা, শুভাশিস বোস, সুমিত রাঠি (মনবীর সিং), অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাংরি (লালরিনলিয়ানা হামতে), কিয়ান নাসিরি, হুগো বুমৌস, জেসন কামিংস (আর্মান্দো সাদিকু), দিমিত্রি পেত্রাতোস

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle