Mohun Bagan SG: ১ (সাহাল)
টাইব্রেকার: ৫ রাহুল (গোল), জেলকোভিচ (গোল), শুভাশিস (গোল), জেমি (গোল), কিয়ান (গোল)
সাডেনডেথ: থাপা (গোল), আলবার্তো (গোল), সুহেল (গোল), অভিষেক (গোল)
Jamshedpur FC: ১ (দেবেন্দ্র)
টইব্রেকার: ৫ রিয়াতা (গোল), রেনিয়ার (গোল), আমন (গোল), অভিষেক (গোল), প্রণয় (গোল)
সাডেনডেথ: লাকরা (গোল), প্রতীক (গোল), নিখিল (গোল), মামা (সেভ)
সুচরিতা সেন চৌধুরী: ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই একই লক্ষ্যে নেমেছিল মোহনবাগান এসজি (Mohun Bagan SG)। প্রতিপক্ষ জামশেদপুর এফসি। এদিন হেরে গেলেই ইতি হয়ে যাবে যে নামের। কয়েকদিন আগেই আইএসএল না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জামশেদপুর। সেই অবস্থাতেই ডুরান্ড কাপ খেলছে দলটি। সেই মানসিক অস্থিরতার মধ্যেই সেমিফাইনালে পৌঁছেছে জামশেদপুর। তার মধ্যেই অবশ্য আশার আলো দেখেছে ফুটবলাররা। জামশেদপুর এফসি কিনে নিয়েছে চার্চিল ব্রাদার্স। কিন্তু এখনও প্লেয়ারদের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। যার প্রভাব জামশেদপুরের খেলায় শুরুতে থাকলেও প্রথমার্ধের শেষে গোল করে সমতায়ও ফিরল দল। যদিও শুরু থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করে মোহনবাগান। যার ফল ২ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল সবুজ-মেরুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পৌঁছে গেল টাইব্রেকার হয়ে সাডেন ডেথে। আর সেখানে মোট ১০-৯ গোলে বাজিমাত মোহনবাগানের।
সোমবার সকাল থেকেই ছিল আকাশেরর মুখ ভার। কখনও প্রবল, আবার কখনও ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে চপচপে ভিজে মাঠেই শুরু হল খেলা। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলল মোহনবাগান। ম্যাচ শুরুর ২ মিনিটেই সাহালের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবগান। দ্রাজিচের পাস থেকে সাহালের নিখুঁত ফিনিশ। এর পরও একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করল দল। দেজান দ্রাজিচ একাই মিস করলেন নিশ্চিত দুটো গোলের সহজ সুযোগ। কিন্তু আর গোল এল না প্রথমার্ধে। বরং একটা গোল হজম করে বসল বিশাল কেইথের ভুলে।
প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগেই গোল হজম করে বসল মোহনবাগান। সমতায় ফিরল জামশেদপুর। রাশিথোই মিতেই প্রায় মাঝমাঠ থেকে গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। সেই বল ফিস্ট করলেও ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বিশাল কেইথ। সেই বলই গোলে ঠেলেন দেবেন্দ্র ধাকু। ১-১ গোলেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। এদিন দলে তিনটে পরিবর্তন করেছিলেন মোহনবাগান কোচ দিমপেরিস। প্রথমার্ধের শেষে দ্রাজিচ চোট পেয়ে যাওয়ায় কিয়ান নাসিরিকে নামাতে বাধ্য হন কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মনবীরকে তুলে জেমি ম্যাকলারেনকে নামিয়ে আক্রমণে জোড় দেন তিনি। তার মধ্যেই যেভাবে ফাঁকা গোল পেয়েও নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন লিস্টন কোলাসো তা মোহনবাগান সমর্থকদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে লিস্টনকে তুলে তাই সায়নকে নামালেন কোচ। অন্যদিকে সাহালকে তুলে সুহেলকে নামিয়ে খেলায় গতি আনার চেষ্টা করলেন দিমপেরিস। কারণ প্রথমার্ধের শেষ থেকে খেলায় ফিরতে শুরু করে জামশেদপুর। দ্বিতীয়ার্ধে চেনা লড়াকু জামশেদপুরকেও ফিরে পাওয়া গেল। এদিন দুই অর্ধে দুটো পেনাল্টির আবেদন করেছিল মোহনবাগান। প্রথমার্ধে বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করছিলেন প্রভাত লাকড়া, দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের মধ্যে আলবার্তোকে জামা ধরে টেনে ফেলে দেন প্রতীক চৌধুরী। কোনও আবেদনেই সাড়া দেননি রেফারি। শেষ নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। ডুরান্ড কাপে নেই কোনও এক্সট্রা টাইম, তাই সরাসরি টাইব্রেকারে দুই দলই ৫-৫। গোল করার পর সাডেন ডেথে জিতে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল মোহনবাগান। ম্যাচের পুরো স্কোর লাইন মোহনবাগানের পক্ষে ১০-৯।
মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, শুভাশিস বোস, রাহুল ভেকে, আলবার্তো রডরিগেজ, অভিষেক সিং, লিস্টন কোলাসো (সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়), সাহাল আব্দুল সামাদ (সুহেল ভাট), অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়া (সমীর জেলকোভিচ), দেজান দ্রাজিচ (কিয়ান নাসিরি), মনবীর সিং (জেমি ম্যাকলারেন)
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
