হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে বুঝিনি চোটের গুরুত্ব: Shreyas Iyer

Shreyas Iyer

একটা কঠিন সময় কাটিয়ে স্বমহিমায় ফিরেছেন ক্রিকেটে। কিন্তু শুরুতে বুঝতেই পারেননি চোট এতটা গুরুতর! ভারতীয় ব্যাটার শ্রেয়াস আইয়ার (Shreyas Iyer) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে পাওয়া প্লীহার চোটের অবস্থান হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই বুঝতে পেরেছিলেন এবং এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন। সেই আঘাতের পর, ভদোদরায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৯ রান করে সফলভাবে মাঠে ফেরেন আইয়ার। তিনি বলেন, “এটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল, অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। আমি বুঝতে পারিনি আঘাতটা কতটা গুরুতর ছিল, যখন জানতে পারলাম যে প্লীহা (spleen) আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি একটি অঙ্গ। আমি এর আগে এই শব্দটিই জানতাম না।”

“এরপর পরের দিন, যখন আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হল, আমি বুঝতে পারলাম, ‘বাহ, ঠিক আছে, এটা একটা গুরুতর আঘাত ছিল।’ হ্যাঁ, প্লীহা শব্দটি আমি সেদিনই প্রথম শিখেছিলাম,” রাজকোটের নিরঞ্জন শাহ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে এক আড্ডায় বলেন আইয়ার।


আইয়ার আরও বলেন, সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া তাঁকে মন্থর হতে এবং আত্মবিশ্লেষণ করতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়াটি আমাকে অনুভব করিয়েছে যে আমাকে নিজেকে কিছুটা সময় দিতে হবে, অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবে না, কারণ আমি এমন একজন যে এক জায়গায় বসে থাকতে পারি না। আমি সবসময় কিছু না কিছু করতে চাই। কিন্তু এই আঘাতটি বিশেষ করে আমাকে নিজের সম্পর্কে চিন্তা করার, সতেজ হওয়ার এবং যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, কারণ এমনটা নয় যে আপনি উঠে সোজা অনুশীলন শুরু করতে পারবেন।”

“আপনাকে নিজেকে অনেক সময় দিতে হবে, এবং আমাকে বলা হয়েছিল যে ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে আমি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব এবং তারপর প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারব। তাই আমাকে দেওয়া সঠিক নির্দেশিকাগুলো আমি অনুসরণ করেছি এবং এরপর সবকিছু মসৃণভাবে চলেছে,” তিনি বলেন।

ফিরে আসার পর থেকে তিনি বড় শট খেলার জন্য আরও বেশি চেষ্টা করছেন কিনা জানতে চাইলে আইয়ার বলেন, এটা ইচ্ছাকৃত নয়, বরং সহজাত প্রবৃত্তি। “সত্যি বলতে, আমি কিছু করার চেষ্টা করছি না। এটা কেবল সহজাত প্রবৃত্তি। আমি নেটে যত বেশি অনুশীলন করি, ম্যাচ তত সহজ হয়ে যায়। এমনকি নেটেও আমি ঠিক করি না যে আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে লক্ষ্য করব বা বোলারদের আক্রমণ করব। আমি বর্তমান মুহূর্তে থাকতে পছন্দ করি এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বল যদি আমার সীমার মধ্যে থাকে, তবে আমি সেটাকে কাজে লাগাব। একই সময়ে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। আমার মনে হয়, আগের ম্যাচে আমার ধারণা ছিল যে আমি সিঙ্গল নেব। সেই প্রক্রিয়ায় আমার শরীরও কিছুটা ধীরগতিতে প্রতিক্রিয়া করছিল। তাই আমি আর ভবিষ্যতে সেই মানসিকতায় থাকতে চাই না, এবং এটাই এখন আমার মানসিকতা।’’

দলের সেরা খেলোয়াড় বিরাট কোহলির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রসঙ্গে আইয়ার বলেন, তাদের কৌশল ছিল বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা এবং এমন একটি স্কোর গড়া যা বোলারদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। “দেখুন, আমাদের মধ্যে যোগাযোগটা সবসময়ই বেশ মজার হয়। আমরা শুধু আলোচনা করি যে আমরা বোলারদের বিপক্ষে কীভাবে খেলব এবং যতটা সম্ভব বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করি।’’

“সুতরাং, এমনটা নয় যে আমরা প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক হব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা নিজেদের কিছুটা সময় দেব। তবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এখন ৫০ ওভারের ম্যাচে, যখন আপনি ৩০০ রান দেখেন, তখন সেটা সহজেই তাড়া করা যায়। তাই আপনাকে এমন একটি স্কোরে পৌঁছতে হবে যেখানে আপনি বোলারদের বলতে পারেন, ‘ঠিক আছে, এটা একটি নিরাপদ স্কোর, এবং আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ম্যাচটি জিততে হবে।’ তাই ব্যাপারটা হলো সেই ইতিবাচক মানসিকতায় থাকা এবং বোলারদের প্রচুর আত্মবিশ্বাস জোগানো, বিশেষ করে যখন তারা বল করতে আসছে,” তিনি শেষ করেন।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle