ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মতে, ডাইনোসররা ২৫২ থেকে ২০১ মিলিয়ন বছর আগে ট্রায়াসিক যুগে বাস করত। এবং তারা ২০১ থেকে ১৪৫ মিলিয়ন বছর আগে জুরাসিক যুগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ কী? এটি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। এই গণবিলুপ্তির ঘটনাটি কেবল পৃথিবী থেকে ডাইনোসরদেরই নিশ্চিহ্ন করে দেয়নি, বরং গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এটি সামুদ্রিক জীব, ডাইনোসর-বহির্ভূত সরীসৃপ এবং বড় উভচর প্রাণী (চার পা-ওয়ালা প্রাণী)-সহ ৭০%-৮০% প্রজাতিকে প্রভাবিত করেছিল। কিন্তু এটি সমুদ্র ও নদী শুকিয়ে ফেলেনি, তা না হলে আমরা অস্ট্রেলিয়ার ফিঙ্কে নদী (Finke River) সম্পর্কে জানতে পারতাম না। এটিকে ৩০০-৪০০ মিলিয়ন বছর পুরানো বলে মনে করা হয়। হ্যাঁ! এটি ডাইনোসরদের চেয়েও পুরানো।
এর আবহবিকারের ধরণ, ভূতাত্ত্বিক রেকর্ড এবং রেডিওনিউক্লাইড পলল অধ্যয়ন করার পর বিজ্ঞানীরা এই নদী প্রণালীটির সময়কাল ডেভোনিয়ান (৪১৯ মিলিয়ন থেকে ৩৫৯ মিলিয়ন) যুগ বা কার্বনিফেরাস (৩৫৯ মিলিয়ন থেকে ২৯৯ মিলিয়ন) যুগে নির্ধারণ করেছেন।
বিশ্বের প্রাচীনতম নদী ফিঙ্কে নদী, যা আদিবাসী আররেন্টে ভাষায় লারাপিন্টা নামেও পরিচিত, মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এবং এটি নর্দার্ন টেরিটরি ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকডোনেল রেঞ্জ থেকে উৎপন্ন এই নদীটি কেবল বিশ্বের প্রাচীনতম নদীপথই নয়, এটি লেক আয়ার অববাহিকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ের মধ্যে একটি।
এর জটিল খাল ও জলধারার নেটওয়ার্ক ৬৪০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং বন্যার সময় এটি ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে লেক আয়ারে পৌঁছতে পারে। বিশ্বের প্রাচীনতম নদী হওয়া সত্ত্বেও, ফিঙ্কে নদী সারা বছর ধরে প্রবাহিত হয় না। এই অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এর অনিয়মিত। বছরের বেশিরভাগ সময় মানুষ এটিকে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু জলাশয়ের সারি হিসেবেই দেখতে পায়।
সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভূ-রূপবিজ্ঞানী ভিক্টর বেকার বিশ্বের প্রাচীনতম ফিঙ্কে নদী প্রণালী সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন যে এই নদীটির একটি ক্রস-অ্যাক্সিয়াল নিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে (একটি নদী ব্যবস্থা যা ভূতাত্ত্বিক কাঠামো অনুসরণ না করে সেগুলোকে অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়)। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই অঞ্চলের কোয়ার্টজাইটের মতো প্রতিরোধক শিলা কাঠামোর সমান্তরালে প্রবাহিত না হয়ে, ফিঙ্কে নদীটি মধ্য অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকডোনেল রেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় খনিজ স্তরগুলোকে ভেদ করে প্রবাহিত হয়।

তিনি আরও জানান, এমন কিছু ধারণা আছে যে, এই পর্বতশ্রেণীটি যখন তৈরি হচ্ছিল, তখন সেখানে আগে থেকেই একটি জলধারা প্রবাহিত হচ্ছিল। এটিকে পূর্ববর্তিতা বলা হয় – মূলত, পর্বতমালা গঠিত হওয়ার আগেই নদীটি সেখানে ছিল, এবং যখন ভূত্বক উপরের দিকে উঠে আসছিল, তখন নদীটি নিচের দিকে ক্ষয় করে পথ তৈরি করছিল।
ফিঙ্কে নদীর গতিপথের পেছনের ইতিহাস, ভূগোল এবং বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার মজার বিষয় হল ফিঙ্কে নদীর তীরে, দুঃসাহসিক অভিযাত্রীরা প্রায়শই ল্যারাপিন্টা ট্রেইলের ধারে ক্যাম্পিং করতে পছন্দ করেন, যেখানে পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। কল্পনা করুন রক্তিম বেলেপাথরের খাড়া পাহাড়গুলো জলাশয় এবং পাম গাছগুলোকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। সেটাই হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের পিকনিক স্পট।
পথটি ডেভেনপোর্ট এবং অরমিস্টনের সংযোগস্থলের কাছে শুরু হয়। এখানে প্রচুর চা-গাছের ঝোপ, বুলরাশ এবং ঘন নলখাগড়ার বন দেখা যায়। নদী ও খালের অঞ্চলগুলো উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলে সমৃদ্ধ।
যেহেতু কোনও যানবাহন চলাচলের অনুমতি নেই, তাই স্থানীয় এবং পর্যটকদের ক্যাম্পিং ও হাঁটার জন্য ফি দিতে হয় এবং কেউ চাইলে অনলাইনে আগে থেকেই কয়েক দিনের ট্যুর বুক করতে পারেন। ফিঙ্কে রিভার ট্রেলহেড এবং ল্যারাপিন্টা ট্রেলের ১০ ও ১১ নম্বর অংশে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মূল্য ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৬০৫ টাকা) থেকে ৬০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৩,৬৩০ টাকা) এবং শিশুদের জন্য ৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৩০২ টাকা) থেকে ৩০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১,৮১৫ টাকা) পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আপনার অভিযানের দৈর্ঘ্য এবং দলে লোকের সংখ্যার উপর নির্ভর করে ক্যাম্পিং ফি পরিবর্তিত হতে পারে। আপনি যদি ফিঙ্কে গর্জ ঘুরে দেখতে চান, তবে বিশেষ জিপ (উঁচু চাকার ফোর-হুইল ড্রাইভ গাড়ি) ভাড়া করতে পারেন। পর্যটক এবং স্থানীয়রা এই অঞ্চলে হাঁটা, হাইকিং, খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্পিং এবং পাখি দেখাটা উপভোগ করেন।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
