প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়শই বেঁচে থাকার বিস্ময়কর সব কাহিনির জন্ম দেয়। নেপালে আকস্মিক বন্যার (Nepal Flood) ধ্বংসলীলার মাঝে এমন একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। নেপালের ভয়াবহ বন্যার সময় যখন তীব্র জলস্রোত আশপাশের গ্ৰামের পর গ্ৰাম ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সবুজ রঙের একটি বাড়ি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল সব বাঁধা সামলে; প্রবল স্রোতের মুখে বাড়িটির টিকে থাকার সেই নাটকীয় দৃশ্যও এখন গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ঘোলাটে বন্যার জল ভয়ঙ্কর গতিতে এলাকা দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, বাড়িটির গায়ে গিয়ে আছড়ে পড়ছে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংসাবশেষ। অথচ তীব্র জলের তোড়ে চারপাশ ঘেরা থাকা সত্ত্বেও বাড়িটি মোটামুটি অক্ষত ছিল। এ যাত্রায় বেঁচে গিয়েছে সেই বাড়ি আর বাঁচিয়ে দিয়েছে সেই বাড়ির বারান্দায় দেখতে পাওয়া মানুষগুলোকে। উদ্ধার করা হয়েছে বাসিন্দাদের।
বন্যার জল যখন বাড়িটিকে ঘিরে ধরেছে, তখন সেখানে একটি পরিবারের অন্তত তিন সদস্যকে দেখা গিয়েছে। আশপাশের অন্যান্য ঘর-বাড়ি ভেসে গেলেও, বাড়িটির তেমন কোনও দৃশ্যমান ক্ষতি হয়নি বলেই মনে হয়েছে। যাতে তা ভেঙে পড়তে পারে।
That family in the green house. I hope they are alive and safe. 🙏🏻 what a nightmare. pic.twitter.com/t2tVR2cFD7
— Pooja Shali (@PoojaShali) August 28, 2026
ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বাড়িটির টিকে থাকার ক্ষমতা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আশপাশের ভবনগুলো যখন স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই বাড়িটি কীভাবে বন্যার প্রবল শক্তি মোকাবিলা করে টিকে রইল—তা দেখে সবাই বিস্মিত।
ভিডিওটি দেখে বাড়িটিতে থাকা পরিবারটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অন্য একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে নিশ্চিত করেন যে পরিবারটি নিরাপদ আছে।
नेपाल की तबाही और ये घर लोगों को सालों तक याद रहेगा 😌
आखिरकार… इस घर में फंसे लोग बच गए और अब उन्हें रेस्क्यू किया जा रहा है. pic.twitter.com/W24eRZ5Bko
— Govind Pratap Singh | GPS (@govindprataps12) August 29, 2026
পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে পরিবারটির এই অলৌকিক রক্ষা পাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। বুধবার মধ্য নেপালে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৬০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট বরফ ও পাথরের ধসের (আইস-রক অ্যাভাল্যাঞ্চ) কারণে এই বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল।
নেপালের উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য এনডিআরএফ (NDRF) কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। দুর্যোগের পর অনুসন্ধানকারী দল মোতায়েনের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দেশের প্রস্তাব কাঠমান্ডু প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবরের মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি এল।
শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নিজেদের নাগরিকদের খুঁজে বের করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০০ জন ব্যক্তির সঙ্গে তখনও কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
