Nepal Flood: চার সপ্তাহ পরও ৬০০০ মানুষের খোঁজ অব্যহত

Nepal

নেপালে গত মাসের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় (Nepal Flood) মৃতের সংখ্যা ১,৪৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে রবিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই সঙ্গে নিখোঁজ ৬,০০০ মানুষের সন্ধানে তল্লাশি অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে এই প্রাণঘাতী বন্যা হিমালয়-ঘেরা দেশটির উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের এলাকার পর এলাকা ধ্বংস করে দিয়েছে, বিপর্যস্ত শহর ও গ্রামগুলো। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বিস্তির্ণ অঞ্চল, মানুষ।

ভোটেকোশী নদীতে আছড়ে পড়া বিশাল পাহাড়েই চাাই থেকে প্রবল জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয় যা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানুষ, ঘরবাড়ি, যানবাহন রাস্তাঘাট, সেতু সব ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। মানুষকে বোঝারও সময় দেয়নি যে বিপদ আসছে। পালানোরও সুযোগ পায়নি ওই এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ। সেখানে ছিলেন কেউ স্থানীয় মানুষ তো কেউ ট্যুরিস্ট। এখনও নিরুদ্দেশ মানুষদের অপেক্ষায় দিন গুনছে তাদের পরিবার। যতক্ষণ না দেহ পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ হয়তো এই আশা বেঁচে থাকবে. কারও কারও জন্যে হয়তো সারাজীবন থেকে যাবে অপেক্ষা।


নেপাল এখনও ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে; এই বন্যায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অগস্টের আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৪৫১-এ দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে উদ্ধারকর্মীরা আরও মৃতদেহ উদ্ধার করায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখান থেকে কর্তৃপক্ষ ৩৬৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া রাসুয়া থেকে ২৩৬, পূর্ব নাওয়ালপরাসি থেকে ২৩২ এবং পশ্চিম নাওয়ালপরাসি থেকে ২২২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নুয়াকোট থেকে ২০৩, গোর্খা থেকে ৭৯, ধাদিং থেকে ৭২ এবং তানাহু থেকে ৩৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নেপালে এখনও প্রায় ৬,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে।

বন্যায় নেপাল বিপর্যস্ত হওয়ার প্রায় এক মাস পরও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে রাসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর নদীর বিভিন্ন অংশ, ধ্বংসস্তূপের এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা রাসুয়ার ‘আপার ত্রিশূলি-১’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ১৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, সেখানে রড বা লোহার জালের কাঠামোয় আটকে ছিল এবং কাদার নিচে চাপা পড়েছিল। মৃতদেহগুলো উদ্ধারে গ্রাইন্ডার, গ্যাস কাটার ও রোটারি যন্ত্রপাতির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে নেপাল সেনাবাহিনীর একজন ফিল্ড কমান্ডার জানিয়েছিলেন যে, সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় সেগুলো পরিষ্কার করতে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যেতে পারে।

উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও মৃতদেহ শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্রোতের টানে ভাটির দিকে ভেসে আসা অনেক মৃতদেহ পচে গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা পুরো দেহ পাওয়া যায়নি—যার ফলে উদ্ধারকারীদের পক্ষে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেগুলোকে সাময়িকভাবে সমাহিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলোর মধ্যে মাত্র ১১০টি শনাক্তকরণের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বিশাল অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ চরম সংকটের মুখে পড়েছে; পাশাপাশি রাস্তাঘাট, সেতুগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন জনপদকে সংযুক্তকারী পারাপারের মাধ্যমগুলো বন্যায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, সরকার ত্রিশূলি করিডোর এলাকার ঝুলন্ত সেতুগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাজার, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সুবিধা পেতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে এটা নিয়ে কোনও সংশয় নেই যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও অনেক সময় লাগবে নেপালের এই সব এলাকাগুলোর।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle