জনপ্রিয় খাবার ও ভ্রমণ-গাইড TasteAtlas ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা ডিপ-ফ্রাইড খাবারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকার শীর্ষ ৫০-এ জায়গা করে নিয়েছে ভারতের তিনটি পদ—মালাই কোফতা, চিকেন ৬৫ এবং পাপড়ি চাট। TasteAtlas-এর মূল র্যাঙ্কিংটি মোট ১০০টি ডিপ-ফ্রাইড খাবার পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চমক মালাই কোফতা। বিশ্বের সেরা ডিপ-ফ্রাইড খাবারের তালিকায় এটি রয়েছে ১০ নম্বরে।
আলু ও পনির দিয়ে তৈরি গোলাকার কোফতা প্রথমে তেলে ভেজে নেওয়া হয়। বাইরে তৈরি হয় হালকা মুচমুচে আবরণ, ভিতরে থাকে নরম ও মশলাদার পুর। এরপর সেই কোফতা পরিবেশন করা হয় ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি গ্রেভির সঙ্গে।
উত্তর ভারতের এই জনপ্রিয় পদটি উৎসব, বিয়ে এবং বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠানের খাবার হিসেবেও পরিচিত। TasteAtlas-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মালাই কোফতার সঙ্গে মুঘল আমলের রান্নার ঐতিহ্য এবং তুর্কি-পারস্য খাদ্যসংস্কৃতির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় ভারতের দ্বিতীয় পদ চিকেন ৬৫, যার অবস্থান ৩২ নম্বরে।
চেন্নাইয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই জনপ্রিয় পদে ছোট ছোট মুরগির টুকরো আদা, লেবু, লাল লঙ্কা ও বিভিন্ন মশলায় মেরিনেট করে ডিপ-ফ্রাই করা হয়। ফলে বাইরে হয় মুচমুচে, আর ভিতরে থাকে রসালো ও মশলাদার মাংস।
চিকেন ৬৫-এর নাম নিয়েও রয়েছে একাধিক মত। সবচেয়ে প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালে তামিলনাড়ুর এ. এম. বুহারি এই পদটি তৈরি করেছিলেন। অবশ্য নামের উৎস নিয়ে আরও কয়েকটি তত্ত্ব রয়েছে।
ভারতের তৃতীয় পদটি আরও পরিচিত স্ট্রিট ফুড—পাপড়ি চাট। TasteAtlas-এর বিশ্ব তালিকায় এটি রয়েছে ৪০ নম্বরে।
মুচমুচে ভাজা পাপড়ির সঙ্গে আলু, কালো ছোলা, দই, তেঁতুলের চাটনি, পুদিনার চাটনি, সেভ এবং চাট মশলা মিশিয়ে তৈরি হয় এই জনপ্রিয় খাবার। এক কামড়েই পাওয়া যায় মিষ্টি, টক, ঝাল, নোনতা, ক্রিমি ও ক্রাঞ্চি—বিভিন্ন স্বাদের অসাধারণ মিশ্রণ।
পাপড়ি চাট মূলত উত্তর ভারতে জনপ্রিয় হলেও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এর জনপ্রিয়তা রয়েছে।
ভারতের তিন পদ জায়গা করে নিলেও বিশ্বের সেরা ডিপ-ফ্রাইড খাবারের তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার Chikin বা Korean fried chicken।
প্রথম তিনটি স্থান হল—
-
Chikin — দক্ষিণ কোরিয়া
-
Batagor — ইন্দোনেশিয়া
-
Jalea — পেরু
- Maakouda —
- Katsu karē — জাপান
ডিপ-ফ্রাইং এমন একটি রান্নার পদ্ধতি, যা সাধারণ উপকরণকেও দ্রুত বদলে দিতে পারে। গরম তেলে ভাজার ফলে খাবারের বাইরের অংশে তৈরি হয় ক্রিস্পি স্তর, আর ভিতরের অংশে থাকতে পারে নরম বা রসালো টেক্সচার। বিভিন্ন দেশের নিজস্ব মশলা, সস, উপকরণ এবং রান্নার পদ্ধতি এই একই প্রক্রিয়াকে দিয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদ।
দক্ষিণ কোরিয়ার ডাবল-ফ্রাইড চিকেন থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার মাছের ডাম্পলিং, পেরুর সামুদ্রিক খাবার এবং ভারতের মশলাদার চিকেন বা চাট—তালিকাটি আসলে বিশ্বের বিভিন্ন খাদ্যসংস্কৃতিতে ভাজা খাবারের বৈচিত্র্যই তুলে ধরেছে।
TasteAtlas জানিয়েছে, তাদের র্যাঙ্কিং ব্যবহারকারীদের দেওয়া রেটিংয়ের ভিত্তিতে তৈরি হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২৮,৭৮৬টি রেটিং নথিভুক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ২২,৭৯৪টি রেটিং তাদের সিস্টেম বৈধ হিসেবে শনাক্ত করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এই র্যাঙ্কিংকে বিশ্বের খাবার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং স্থানীয় খাবারকে তুলে ধরা এবং নতুন খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।
মালাই কোফতা, চিকেন ৬৫ এবং পাপড়ি চাট—তিনটি খাবারের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। একটি উত্তর ভারতের সমৃদ্ধ গ্রেভি-ভিত্তিক পদ, একটি দক্ষিণ ভারতের মশলাদার মাংসের পদ এবং অন্যটি জনপ্রিয় স্ট্রিট চাট।
বিশ্বের সেরা ডিপ-ফ্রাইড খাবারের তালিকায় তিনটির জায়গা পাওয়া তাই শুধু ভাজা খাবারের জনপ্রিয়তার প্রমাণ নয়, বরং ভারতের আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য এবং স্বাদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
তথ্যসূত্র: TasteAtlas-এর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর র্যাঙ্কিং এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
