আপনার শহরটি হয়তো আনন্দ করে বেঁচে থাকতে চাওয়া মানুষদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য (World’s Happiest City), যেখানে রয়েছে চমৎকার সব খাবারের অভিজ্ঞতা আর নান্দনিক সব স্মৃতি ধরে রাখার মতো দারুণ সব দর্শনীয় স্থান। কিন্তু এই শহর কি আপনাকে সত্যিই সুখী করে তোলে?
‘টাইম আউট’ (Time Out)-এর ২০২৬ সালের বিশ্বের সুখী শহরগুলোর তালিকায় এমন ২০টি শহরের নাম উঠে এসেছে। তাদের বার্ষিক বৈশ্বিক সার্ভের অংশ হিসেবে প্রায় ২৪,০০০ স্থানীয় বাসিন্দাকে তাদের শহর সম্পর্কে মতামত জানাতে বলা হয়েছিল। তাদের কাছে শুধু নৈশজীবন বা খাবারের মান সম্পর্কেই নয়, বরং শহরের সামাজিক বন্ধন বা কমিউনিটি-বোধ, ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার সহজলভ্যতা এবং শহরটি তাদের কতটা সুখী করে—এসব বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
সেই সব উত্তরের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে ২০২৬ সালের বিশ্বের সুখী শহরগুলোর তালিকা। আর এই তালিকায় শীর্ষ ১০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী শহর।
বিশ্বের সুখী শহরগুলোর তালিকায় ভারতেরযে শহর রয়েছে, তা দেশের ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষীও বটে। শহরটি তার সমৃদ্ধ দেশি খাবার ও বিখ্যাত সব দর্শনীয় স্থানের জন্য পরিচিত এবং উত্তর ভারতের মানুষের কাছে সপ্তাহান্তের ছুটিতে বেড়ানোর অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। এটি হলো ‘পিংক সিটি’ বা গোলাপি শহর! রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর ‘টাইম আউট’-এর ২০২৬ সালের বিশ্বের সুখী শহরগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে।
জয়পুরের হাওয়া মহল পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা—উভয়ের কাছেই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান। দেশ, বিদেশ থেকে ইতিহাসপ্রেমী থেকে শুরু করে পর্যটনপ্রেমীরা সারা বছর ধরে হাজির হন এই জয়পুরে। আসলে, ‘পিংক সিটি’-কে ভালো না বেসে উপায় নেই। যারা জয়পুর ভ্রমণ করেছেন, তারা জানেন যে শহরটি জীবনযাপনের এক অনন্য ভারসাম্য উপহার দেয়। ভালো থাকা, ভালো খাওয়া, ভালো আবহাওয়া, আর সব থেকে বড় হল মানুষের ভালো ব্যবহার।
এখানে রয়েছে সবুজ পার্ক, পায়ে হেঁটে ঘোরার মতো মনোরম এলাকা এবং এমন এক প্রাণচাঞ্চল্য জায়গা যা কখনওই অসহনীয় বিশৃঙ্খলার রূপ নেয় না। পাশাপাশি শহরটিতে রয়েছে ধীরস্থির ও প্রশান্ত জীবনযাপনের এক বিশেষ আকর্ষণ। আপনি সকালটা কাটাতে পারেন কোনও রাজপ্রাসাদ ঘুরে দেখে, বিকেলটা রঙিন সব বাজারে কেনাকাটা করে এবং সন্ধ্যাটা উপভোগ করতে পারেন পেঁয়াজ কচুরি, কিংবা পাস্তা খেয়ে—যদি আপনার পছন্দ তাই হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজকীয় এই শহরে প্রত্যেকের জন্যই কিছু না কিছু রয়েছে। জোহরি বাজার থেকে বাপু বাজার, কিংবা বাঁধনি বস্ত্র থেকে শুরু করে রঙিন জুতো—জয়পুরের অলিগলি কখনোই হতাশ করে না। নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের বিশ্বের সুখী শহরগুলোর তালিকা তৈরির সময় গবেষকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকটি বিষয়ের ওপর মতামত জানতে চেয়েছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে—
১) আমার শহর আমাকে সুখী রাখে
২) অন্য যেসব জায়গায় আমি থেকেছি বা ভ্রমণ করেছি, তার তুলনায় এই শহরে আমি বেশি ভালো বোধ করি
৩) আমার শহরের মানুষদের ইতিবাচক মনোভাবের বলে মনে হয়
৪) আমার শহরের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে আমি আনন্দ খুঁজে পাই
৫) সম্প্রতি আমার শহরে সুখের অনুভূতি অনেক বেড়েছে
এরপর ইতিবাচক মতামতের হারের ওপর ভিত্তি করে এই ক্রমতালিকা তৈরি করা হয়, যেখানে প্রতিটি দেশ থেকে কেবল শীর্ষস্থানীয় শহরটিই চূড়ান্ত তালিকার সেরা ২০-এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। এ বছর তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্যের বাথ (Bath) শহর; এরপর রয়েছে পানামার পানামা সিটি, মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা, কলম্বিয়ার মেডেলিন এবং পোল্যান্ডের ক্রাকভ।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
