বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও প্রবল বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতা শহর। তার প্রভাব পড়ল কলকাতা ময়দানেও। সেই একইভাবে বর্ষার কাঁদামাখা ময়দানের স্মৃতি ফিরিয়ে দিল আইএফএ শিল্ড। আর পুরনো ময়দানের স্মৃতিকে উসকে মোহনবাগানের পর জয় তুলে নিল ইস্টবেঙ্গলও। আইএফএ শিল্ড ২০২৬ (IFA Shield 2026)-এর শুরুটা জয় দিয়েই করে দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রাথমিকভাবে ইস্টবেঙ্গলের এই ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল মহমেডানের বিরুদ্ধে। যা শিল্ডের ওপেনিং ম্যাচও ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে মহমেডান নাম তুলে নেওয়ায় কোনও রকমে কাস্টমসকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই ইস্টবেঙ্গল মাঠে এদিন ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে মোহনবাগানের মতো বড় ব্যবধানে জিততে দেয়নি প্রতিপক্ষকে, ম্যাচ শেষ হয় ৩-১ গোলে।
বৃহস্পতিবার ম্যাচের শুরুতেই সবাইকে চমকে দিয়ে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল ক্যালকাটা কাস্টমস। ম্যাচের বয়স তখন সবেমাত্র ১২ মিনিট। রিকি হেমব্রম বল নিয়ে ডানদিকে সরে আসেন এবং কাদা মাঠে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া ইস্ট বেঙ্গলের তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলপোস্টের নিচের কোণা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে গোটা ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দেয় কাস্টমস। এমনটা হয়তো কেউই প্রত্যাশা করেনি। যেভাবে শ্রীনিধি ডেকানকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে হারিয়েছিল মোহনবাগান তাতে ইস্টবেঙ্গলকে নিয়েও একইরকমের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে দারুণ ফর্মে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। গতবারের আইএসএল ও এবারের ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে মরসুমের শুরু থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এখন দেখার এবারের শিল্ডে কার নাম লেখা হবে, ইস্টবেঙ্গল না মোহনবাগান?
তবে বেশিক্ষণ এই ফলাফল ধরে রাখতে পারেনি কাস্টমস। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ১২ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ২৯ মিনিটে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। তার পর আর জয়ের পথে এগোতে পারেনি কাস্টমস। ডানদিক থেকে কর্নার নিয়েছিলেন বরিস সিং। সেই কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে হেড করেন রোহিত কুমার। যা গোলরক্ষক দেবজিৎ ঘোষালকে পরাস্ত করে চলে যায় গোলে। সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। যা দলের আত্মবিশ্বাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলেই।
দ্বিতীয়ার্ধ ছিল পরীক্ষার। জিততে হলে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ব্যবধান বাড়াতেই হতো ইস্টবেঙ্গলকে। এবং ৫২ মিনিটেই সেই লক্ষ্যে সফল হয় ইস্টবেঙ্গল। বাঁদিক থেকে বরিস সিং বল পেয়ে যান আকাশ হেমব্রমের কাছ থেকে এবং সেই চলতি বলেই তিনি ক্রস বাড়ান মাঠের ঠিক মাঝখানে। কোনও ডিফেন্ডারের বাধা ছাড়াই বল লক্ষ্য করে ভেতরে ঢুকে পড়া রোহিত দানু প্রথম টাচেই দেবজিৎকে পরাস্ত করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। ২-১-এ এগিয়ে গিয়ে খেলায় গতি বাড়ায় দল। তবে এক গোলের ব্যাবধান যে যথেষ্ট ছিল না তা জানাই ছিল। তাই লক্ষ্য ছিল অন্তত দু’গোলের ব্যবধান। তবে সেই ব্যবধান বাড়াতে ইস্টবেঙ্গলের লেগে গেল ৮৫ মিনিট।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক তখন বাকি ৫ মিনিট। বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন রাহুল সোরেন, সেই মুহূর্তেই তাঁকে কাটিয়েই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন মহম্মদ বিলাল।কিন্তু তিনি গোল করার মতো অবস্থানে ছিলেন না। বরং বল লক্ষ্য করে জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন আকাশ হেমব্রম। তাঁর উদ্দেশ্যেই ক্রস বাড়ান বিলাল, আর আকাশ ঠান্ডা মাথায় ৩-১ করেন।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
