সুচরিতা সেন চৌধুরী: শুনেছি আজকাল পান থেকে চুন খসলেই আমাদের স্বনামধন্য ক্লাবগুলো সাংবাদিকদের ব্যান করে দেয়। কিন্তু ক্লাবগুলোর অব্যবস্থার খেসারত যে সাংবাদিকদের দিতে হয় তার দায় কে নেবে? এটাও প্রেসবক্স!!! বাকি সাংবাদিকরা অবশ্য বললেন, এটাই নাকি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রেসবক্স। অনেকদিন পর ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ক্লাবের প্রেসবক্সে ঢুকে চমকে গিয়েছিলাম। কার দায়, কে কার ঘারে দোষ চাপাবে সেটা সাংবাদিকদের দেখার কথা নয়। ক্লাব তাঁবু, ভিআইপি বক্স ঝাঁ চকচকে কিন্তু প্রেস বক্সের অবস্থা ভাগারের থেকেও অধম। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন, ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে প্রচার, প্রশংসা করতে তো আমরা কার্পন্য করিনি তাহলে আমাদের জন্য এতো অবহেলা কেন, আজকে এই প্রশ্নটা তুলতেই হচ্ছে।
একদিন আগেই মোহনবাগান মাঠের প্রেসবক্সে ম্যাচ কভার করলাম। জায়গা ছোট, কিন্তু অন্তত এসি রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের প্রেসবক্সে তো ফ্যানও নেই। তাহলে করনীয় কী? আইএফএ-এর এখানে কী ভূমিকা হওয়া উচিৎ? কারণ টুর্নামেন্ট তো আইএফএ-এর। প্রেসবক্স আবার ক্লাবের। তাহলে এই মাঠে খেলা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হোক যতদিন না প্রেসবক্স ঠিক হচ্ছে। একটা ফুটবল ক্লাবের পরিকাঠামোর বড় অংশ প্রেসবক্স আর এখানে সব থেকে অবহেলিত তারাই। পেশাদার ফুটবলেরও অংশ হওয়া উচিৎ বৈকি। কিন্তু আমরা তো আধা পেশাদার। বক্সের পরিচ্ছন্নতার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জলের বোতল, চায়ের কাপ আর এক হাঁটু ধুলো। কতদিন পরিষ্কার হয়নি কে জানে। শিল্ডের একটা ম্যাচ কিন্তু এখানেই হয়েছে এই অবস্থায়, কলকাতা লিগের ও।
বুধবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে কভার করতে গিয়েছিলাম আইএফএ শিল্ড ২০২৬-এর ইস্টবেঙ্গল বনাম পঞ্জাব এফসি ম্যাচ কিন্তু সেই ম্যাচে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেলাম না একটুও। নিজেরাই বসতে পারছি না সেখানে ল্যাপটপ খুলে কপি লেখার কথা ভাবাও পাপ। প্রথমার্ধেই অবশ্য ঘরের মাঠে গোল হজম করে বসল ইস্টবেঙ্গল। যেখানে থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না। যদিও দুই দলের সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তাই কিছুটা গা ছাড়া ভাব তো ছিলই খেলায়। ঠিক যেমনটা আগেরদিন মোহনবাগানের খেলায়ও দেখা গিয়েছিল।

ইস্টবেঙ্গলের প্রেসবক্স
আর সেই সুযোগেই ৪১ মিনিটে গোল করে এগিয়ে গেল পঞ্জাব এফসি। ইস্টবেঙ্গলকে খেসারত দিতে হল গা ছাড়া ভাবের। প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল প্লেয়ার মেসি বাউলি ডানদিক থেকে ক্রস বাড়িয়েছিলেন দিয়েগো রপোসোকে লক্ষ্য করে। তিনি সেই বল প্রথম টাচে ধরে, দ্বিতীয় টাচেই গোলে শট নেন। ইস্টবেঙ্গল গোলের নিচে ফুরবা লাচেনপা নড়ার সুযোগ পাননি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার আগে প্রথমার্ধের শেষে অবশ্য একদম বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পেয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যা উড়িয়ে দেন ইকোনিমিডিস। এর পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পঞ্জাব গোলকিপার অর্শদীপ সিং বক্সের বাইরে বল হাত দিয়ে ধরে ইস্টবেঙ্গলকে সুবিধেজনক জায়গায় আবারও ফ্রিকিক পাইয়ে দেন। সেটাও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হোম টিম। আবারও সেই ইকোনিমিডিস, এবার মারলেন ওয়ালে।

দ্বিতীয়ার্ধে জিকসন, বিপিনদের নামিয়ে খেলার হাল ধরার চেষ্টা করলেন হাবাস। যদিও তাতে লাভ হল না। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে জোড়া হলুদ কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়লেন নিখিল প্রভু। কিন্তু হেরেই শিল্ডের গ্ৰুপ পর্ব শেষ করতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। মোহনবাগান তাও ড্র করে মান বাঁচিয়েছিল। এদিনের খেলায় মোটেও ধার ছিল না ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নদের। হেরে সেমিফাইনালেই ডার্বির দামামা বেজে যাওয়ার কথা ছিল নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু আইএফএ চায় ডার্বির ফাইনাল, তাই কোনও এক অদৃশ্য ড্রয়ের মাধ্যমেই সেটা ঠিক হবে বলে জানা যাচ্ছে। ঐতিহাসিক ৫-০ গোলের ৫১ বছরের জন্মদিনে হার উপহার দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
