সুচরিতা সেন চৌধুরী: কলকাতা কি ফুটবল থেকে মুখ ফেরাচ্ছে? না হলে পর পর দুটো আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলির পর ডার্বিতেও (East Bengal vs Mohun Bagan) গ্যালারির সেই চেনা ছবি দেখা গেল না। আত্মপক্ষ সমর্থনে বলা যেতেই পারে, সপ্তাহের মাঝখানে খেলা হওয়ায় হয়তো গ্যালারি ফাঁকা থাকল। কিন্তু কলকাতা ডার্বি তো এই সবের ধার ধারে না! তাহলে কি নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ডার্বিই কাল হচ্ছে? মরসুম সবে শুরু হয়েছে, আর তার মধ্যেই চার চারটি ডার্বি হয়ে গেল। গত কয়েক বছর ধরে এই একটা ট্রেন্ড চলছেই, যে কোনওভাবে ডার্বি করে দেওয়া। একটা তো বটেই, একাধিক হলে আরও ভালো। তাও ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচ সব সময়ই একটা আলাদা মুহূর্ত তৈরি করে। সে মাঠের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গ্যালারি হয়ে বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়ায় পৌঁছে যাওয়া পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএফএ শিল্ড ২০২৬-এর ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল মোহনবাগানই। কলকাতা লিগের পর আইএফএ শিল্ড (IFA Shield 2026 Final) জিতে আইএসএল খেলতে নামবে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের পাখির চোখ অবশ্য এএফসি।
এই মরসুমে ডুরান্ড কাপের পর আরও একটা ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। যেখানে ইস্টবেঙ্গলের সামনে লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় ফাইনাল ডার্বি জিতে শিল্ড ট্রফি ঘরে তোলা। আর মোহনবাগানের সামনে লক্ষ্য ছিল ডুরান্ড ফাইনালে হারের বদলা নেওয়া এবং শিল্ড ধরে রাখা। যাতে সফল সবুজ-মেরুন। প্রথমার্ধের মোহনবাগান কিন্তু দাপট দেখাতে শুরু করল ১৫ মিনিট থেকেই। তার আগে পর্যন্ত মনে হচ্ছিল এগিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গলই। ৬ মিনিটে এডমুন্ড বক্সের মধ্যে গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারলেন, ১২ মিনিটে রশিদের অনবদ্য পাস থেকে ভালো জায়গায় বল পেয়েও গোলে রাখতে পারলেন না বিপিন সিং। এরপর থেকেই খেলাটা ধরে নেয় মোহনবাগান। যার ফল প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগেই জেলকোভিচের গোলে এগিয়ে শেষ করে মোহনবাগান।
১৫ মিনিটেই প্রথম ইস্টবেঙ্গল বক্সে আছড়ে পড়েছিল মোহনবাগান আক্রমণ, যখন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন লি আরউইন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবে এক মুহূর্তের জন্যও হাল ছেড়ে দেয়নি মোহনবাগান। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটই ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে ব্যস্ত রাখল মোহনবাগানের আক্রমণ ভাগ। ১৯ মিনিটে ছাংতে, ২৩ মিনিটে মেহতাব সিংয়ের শট অল্পের জন্য বাইরে গেল। তবে প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের নামে লেখা থাকবে ফুর্বা লাচেনপার দুটো অনবদ্য সেভ। ৩৬ মিনিটে ছাংতের জোড়াল শট শরীর ছুঁড়ে বাইরে পাঠানোর এক মিনিটের মধ্যেই সাহালের শট দারুণ দক্ষতার সঙ্গে না বাাঁচালে বিপদ নিশ্চিত ছিল ইস্টবেঙ্গলের।যদিও গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে যে গোলটি হজম করলেন তার জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হবে তো বটেই।
৪৫ মিনিটে এডমুন্ডের পায়ে লেগে বল পেয়ে যান সাহাল, সেখান থেকে তিনি পাস বাড়ান জেলকোভিচকে লক্ষ্য করে। বল দেখে এগিয়ে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই গোলের মুখ খুলে ফেলেন সমীর জেলকোভিচ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে। প্রথমার্ধের উত্তেজনাকে ছাঁপিয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের উত্তাপ। ৫৭ মিনিটে দ্রাজিচ আর সন্দীপ মান্ডির সংঘর্ষে মাথা ফাটে দ্রাজিচের। ব্যান্ডেজ বেধেই মাঠে ফেরেন তিনি, চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মান্ডি। এর মধ্যেই হালকা উত্তেজনা ছড়ায় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে, যদিও তা বেশিদূর গড়ায়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে এগিয়েই শুরু করে মোহনবাগান। তার ফাঁকেই বার কয়েক ঝটিতি আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গলও। কিন্তু দিনটি লাল-হলুদের ছিল না। সুযোগ তৈরি হল কিন্তু কাজের কাজ হল না। প্রথমার্ধের ১-০ গোলের ব্যবধান ধরে রাখল মোহনবাগান। গতবারের পর আবার ও চিরশত্রু ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই শিল্ড জয় মোহনবাগানের।
ইস্টবেঙ্গল: ফুর্বা লাচেনপা, হার্দিক ভাট, লালচুংনুঙ্গা, দিয়েগো জিভুলিচ, জয় গুপ্তা (লুকাস জোলিনস্কি), সন্দীপ মান্ডি (পিভি বিষ্ণু), জিকসন সিং, বিপিন সিং, ড্যানিয়েল রামিরেজ (আর্নল্ড লোবা), এডমুন্ড লালরিনডিকা (ক্রিস্টোফার ইকোনোমিডিস), মহম্মদ রশিদ
মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, রাহুল ভেকে, মেহতাব সিং, অ্যালবার্তো রডরিগেজ, অভিষেক সিং, ছাংতে (অনিরুদ্ধ থাপা), সাহাল আব্দুল সামাদ (মনবীর সিং), দীপক টাংরি, সমীর জেলকোভিচ, দেজান দ্রাজিচ (সুহেল ভাট), লি হ্যারি আরউইন (লিস্টন কোলাসো)
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
