ঘরোয়া ফুটবলে দাপট থাকলেও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় এখনও জয়ের মুখ দেখল না ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ওমানের সিব স্পোর্টস স্টেডিয়ামে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু (ACL 2 2026-27)-র গ্রুপ ডি-র ম্যাচে আল-সিবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। আক্রমণে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি হলেও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে ব্যর্থ কলকাতার দল। এই ড্রয়ের ফলে প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচ খেলে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট হল ২। প্রথম ম্যাচে জর্ডনের আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের আল-শোর্তার কাছে ২-৩ গোলে হারের পর এবারও জয় অধরাই রইল অ্যান্টোনিও লোপেজ় হাবাসের দলের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ও জিকসন সিংয়ের নিয়ন্ত্রণে বল দখলে রেখে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে দল। সামনের দিকে দানি রামিরেজ় ও ডেভিড লালহানসাঙ্গার উপস্থিতিতে গোলের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট। তবে প্রথম দিকে আল-সিবও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে আল-সিবের আব্দুল মাজিদ আল বালুশির জোরালো শট আটকে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক ফুর্বা লাচেনপা। তাঁর সেই সেভে শুরুতেই গোল খাওয়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পায় লাল-হলুদ।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। দানি রামিরেজ়ের তৈরি করা আক্রমণ থেকে জয় গুপ্তার সামনে সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আল-সিবের রক্ষণ সময়মতো বল বিপদমুক্ত করে। রামিরেজ় ও জয় গুপ্তার বোঝাপড়ায় আরও একটি আক্রমণ তৈরি হলেও তা থেকে গোল আসেনি।
প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের গতি বাড়ালেও শেষ মুহূর্তের নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। ডেভিড লালহানসাঙ্গা ও দানি রামিরেজ় গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। অন্য দিকে, আল-সিবও নিজেদের মাঠে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়।
দুই দলের লড়াইয়ে মাঝমাঠের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ইস্টবেঙ্গল বল নিয়ে এগোলেও আল-সিবের রক্ষণ ভেঙে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করা সহজ হয়নি। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ০-০।
বিরতির পর দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। গ্রুপের পরিস্থিতিতে এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পাওয়া দু’দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আক্রমণ বাড়লেও গোলের দরজা খুলতে পারেনি কোনও দল।
মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদের নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গল কয়েকটি ভালো আক্রমণ তৈরি করে। কিন্তু আক্রমণভাগের ফুটবলাররা সুযোগগুলিকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হন। অন্য দিকে, আল-সিবও নিজেদের সমর্থকদের সামনে ম্যাচ জেতার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আল-সিবের হয়ে জাহের আল-আগবারি মাঠে নামেন আহমেদ আল-রিয়ামির পরিবর্তে। ইস্টবেঙ্গলও রক্ষণে পরিবর্তন আনে—চুংনুঙ্গার জায়গায় নামেন সন্দীপ মান্ডি। কিন্তু পরিবর্তনেও ম্যাচের ফল বদলায়নি।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয়। ঘরের মাঠে আল-সিবকে হারানোর সুযোগ না পেলেও অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরল ইস্টবেঙ্গল।
আল-সিবের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস জানিয়েছিলেন, পুরো ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখা এবং রক্ষণে ভুল কমানো অত্যন্ত জরুরি। আগের ম্যাচে আল-শোর্তার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে পরপর দু’টি গোল হজম করে হেরে গিয়েছিল দল।
এবার রক্ষণে গোল না খাওয়ার দিক থেকে ইতিবাচক ফল এলেও আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা ফের সামনে চলে এসেছে। ঘরোয়া লিগে চার্চিল ব্রাদার্স ও ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ের পর মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারছে না ইস্টবেঙ্গল।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ৩ নভেম্বর। সেই ম্যাচে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফের আল-সিবের মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ। এবার ঘরের মাঠে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নামতে হবে হাবাসের দলকে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতে পয়েন্ট হারানোর সুযোগ ক্রমশ কমছে। তাই পরের ম্যাচে আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—দুই দিকেই উন্নতি করতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত তথ্য
- প্রতিযোগিতা: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু ২০২৬-২৭
- গ্রুপ: ডি
- ম্যাচ: আল-সিব বনাম ইস্টবেঙ্গল
- তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- ভেন্যু: সিব স্পোর্টস স্টেডিয়াম, ওমান
- ফল: আল-সিব ০-০ ইস্টবেঙ্গল
- ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট: তিন ম্যাচে ২
- পরের ম্যাচ: ৩ নভেম্বর, কলকাতায় আল-সিবের বিরুদ্ধে
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
