ISL 2026-27: মোহনবাগান এসজি ২ (লি আরউইন, দেজান দ্রাজিচ) বনাম পঞ্জাব এফসি ১ (আলফ্রেড মোয়া)
সুচরিতা সেন চৌধুরী: এক কথায় দুর্বিসহ মোহনবাগানের রক্ষণ। আইএসএল ২০২৬-২৭ (ISL 2026-27)-এর আগের ম্যাচে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে সৌভাগ্যক্রমে জয় এসেছিল। সেই ম্যাচের পর নিজেদের গুছিয়ে নিতে প্রায় পাঁচ দিন সময় পেয়েছিলেন প্যানাজিওটিস দিমপেরিস। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসেও নিজের দল নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার কোনও প্রভাব দেখা গেল না মোহনাগানের খেলায়। ম্যাচের শুরু থেকে যেভাবে মোহনবাগান রক্ষণকে নিয়ে ছেলে খেলা করল পানোসের প্রাক্তন দল তাতে নতুন করে দল গোছাতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। যদিও ১৫ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফিরে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিল মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত জয়ও এল ২-১ গোলে তবে এই স্বস্তি আত্মতুষ্টি হলে দীর্ঘ লিগে বড় বিপদে পড়তে হবে।
ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল পঞ্জাব এফসি। কোনসাম সিংয়ের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে মোহনবাগান রক্ষণকে রীতিমতো দাঁড় করিয়ে রেখে অবলীলায় গোল করে গেলেন আলফ্রে়ড মোয়া। শুভাশিষের পায়ের ফাঁক দিয়ে গোলে চলে গেল বল। ম্যাচের শুরুতেই প্রশ্ন উঠে গেল মোহনবাগান রক্ষণ নিয়ে। চেন্নাই ম্যাচের দলে জোড়া পরিবর্তন করেছিলেন দিমপেরিস। মেহতাব সিংয়ের জায়গায় শুভাশিস বোস আর ছাংতের জায়গায় সাহাল আব্দুল সামাদকে প্রথম দলে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তবে খুব একটা লাভ হল না। কারণ ১১ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন সাহাল। মাঠে এলেন অনিরুদ্ধ থাপা। মাথা ফাটল আলবার্তোরও। তবে ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে নামলেন তিনি। তার আগেই অবশ্য সমতায় ফিরেছে মোহনবাগান।
১৮ মিনিটে আরউইনের গোলে মোহনবাগান শিবিরের দম বন্ধ পরিবেশে খানিকটা স্বস্তি এল বটে, তবে খেলায় এল না। শুভাশিস থেকে থাপা হয়ে বক্সের বাইরে বল পেয়ে গিয়েছিলেন আরউইন। চলতি বলেই তাঁর শট চলে গেল গোলে। এক্ষেত্রেও পঞ্জাব রক্ষণের ব্যর্থতাও চোখে পড়ল। প্রথমার্ধের শেষের দিকে মেসি বাউলির সঙ্গে সংঘর্ষে নাকে চোট পেলেন রাহুল ভেকে। তবে মাঠ ছাড়তে হয়নি। সাময়িক শুশ্রষার পর মাঠে ফেরেন তিনিও। শেষ বেলায় সমীর জেলকোভিচের শট সরাসরি জমা হয় অর্শদীপ সিংয়ের হাতে।
তবে প্রথমার্ধ শেষের আগেই খেলা ঘুরে যায় মোহনবাগানের দিকে। বক্সের ডান দিকে উড়ে আসা বল ধরে দ্রাজিচের ডান পায়ের শট আটানোর কোনও সুযোগই পায়নি প্রতিপক্ষ রক্ষণ। অনেক খারাপের মধ্যে এই গোল প্রাপ্তি মোহনবাগানের জন্য। ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেই অবশ্য প্রথমার্ধ শেষ করতে পারত মোহনবাগান কিন্তু প্রথম জেলকোভিচ আর ফিরতি বলে আরউইনের শট পর পর বাঁচিয়ে পঞ্জাব দূর্গ রক্ষা করেন গোলকিপার অর্শদীপ। প্রথমার্ধের শেষটা ২-২ গোলেও করতে পারত পঞ্জাব, যদি না অতিরিক্ত সময়ে অফসাইডের জন্য বাতিল হতো মেসি বাউলির গোল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করল মোহনবাগান।
দ্বিতীয়ার্ধ যেন শুরু হল কিছুটা মন্থর গতিতেই। মোহনবাগানের ব্যবধান ধরে রাখার লক্ষ্য থাকাটাই স্বাভাবিক। পঞ্জাবের সামনে যা ছিল সমতায় ফেরার। সুযোগও এল। প্রায় নিশ্চিত সুযোগ অল্পের জন্য হাতছাড়াও হল। যেভাবে গোলের সামনে গোলকিপারকে একা পেয়েও মেসি বাউলির বাড়ানোর বলে পা ছোয়াতে পারলেন না মহম্মদ সুহেল তাতে হতাশা গ্রাস করাই স্বাভাবিক। ৭৪ মিনিটে লিস্টনের অসাধারণ পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যে ভাবে গোলকিপারের গায়ে মারলেন আরউইন তাতে গোল করার পরও ভিলেন হয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তার পর গোল হজমও করতে হতে পারত মোহনবাগানকে। যদি না আলফ্রেডের নিশ্চিত গোলমুখি শট অসাধারণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দিতেন বিশাল কাইথ।
দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল এল না কোনও পক্ষের ঘরেই। কষ্টার্জিত জয়ের সঙ্গেই মোহনবাগানের প্রাপ্তি আইএসএল-এর শুরুতেই প্রথম ম্যাচ হারের পর জয়ের হ্যাটট্রিক। চার ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের শীর্ষে পৌঁছে গেল মোহনবাগান। তবে তা ধরে রাখতে পানোসকে অনেক বড় পরীক্ষা দিতে হবে। আপাত তার প্রস্তুতিতেই মন দিন তিনি।
মোহনবাগান: বিশাাল কাইথ, শুভাশিস বোস, রাহুল ভেকে, আলবার্তো রডরিগেজ, অভিষেক সিং, সমীর জেলকোভিচ, সাহাল আব্দুল সামাদ (অনিরুদ্ধ থাপা), দীপক টাংরি, দেজান দ্রাজিচ (লিস্টন কোলাসো), মনবীর সিং, লি আরউইন (লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে)
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
