ঋতু পরিবর্তনের (Weather Change) সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা এবং দূষণের মাত্রাতেও পরিবর্তন আসে। আর এর প্রভাব পড়তে পারে আমাদের শরীরের উপর। বিশেষ করে গরম থেকে ঠান্ডা বা ঠান্ডা থেকে গরমে হঠাৎ পরিবর্তন হলে অনেকেরই সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, অ্যালার্জি, শরীর ব্যথা কিংবা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কেন আবহাওয়া বদলালে অসুস্থতা বাড়ে?
আবহাওয়ার পরিবর্তনে শরীরকে নতুন তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। এই সময়ে কিছু ভাইরাসের সংক্রমণও দ্রুত ছড়াতে পারে। ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস নাক ও গলার ভিতরের অংশকে শুষ্ক করে দিতে পারে। আবার আর্দ্রতা বেশি হলে ছত্রাক ও কিছু অ্যালার্জেনের বৃদ্ধি হতে পারে, যার ফলে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে।
কী কী সমস্যা হতে পারে?
আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় সাধারণত দেখা দিতে পারে—
- সর্দি, কাশি ও হাঁচি
- গলা ব্যথা বা গলা শুকিয়ে যাওয়া
- মাথাব্যথা
- জ্বর ও শরীর ব্যথা
- নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে জল পড়া
- অ্যালার্জি
- হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়া
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
যাঁদের আগে থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি বা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
১. পর্যাপ্ত জল পান করুন
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে নিয়মিত জল পান করুন। আবহাওয়া ঠান্ডা হলেও জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেবেন না।
২. পোশাকের দিকে নজর দিন
হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী গরম পোশাক ব্যবহার করুন। আবার গরমে অতিরিক্ত মোটা পোশাক এড়িয়ে চলুন।
৩. হাত পরিষ্কার রাখুন
খাবার খাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। সংক্রমণ এড়াতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি ঘুমের ঘাটতিও এড়ানো উচিত।
৫. পুষ্টিকর খাবার খান
তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছসহ সুষম খাবার খান। অতিরিক্ত তেল-মশলা ও অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।
৬. অ্যালার্জি থাকলে সতর্ক থাকুন
ধুলো, ধোঁয়া বা যে কোনও নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের কারণে সমস্যা বাড়লে তা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭. ঘর পরিষ্কার ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখুন
ধুলো জমতে দেবেন না। ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, তবে বাইরে দূষণ বা অ্যালার্জেনের মাত্রা বেশি থাকলে জানালা খোলা রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
অসুস্থ হলে কী করবেন?
হালকা সর্দি-কাশি হলে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল এবং পুষ্টিকর খাবার শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করতে পারে। তবে নিজের থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনও প্রেসক্রিপশন ওষুধ শুরু করা উচিত নয়।
জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট হলে, বুকে ব্যথা হলে, খুব বেশি দুর্বল লাগলে বা উপসর্গ দ্রুত বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন, আবহাওয়া পরিবর্তন নিজে সবসময় অসুস্থতার কারণ নয়; তবে এই সময়ে সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা আগে থেকে থাকা কিছু স্বাস্থ্যসমস্যার উপসর্গ বাড়তে পারে। তাই সামান্য সতর্কতা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও পরিচ্ছন্নতা আপনাকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
