NASA Telescope ভেঙে পড়তে পারে পৃথিবীতে, সম্ভাব্য জোনের তালিকায় মুম্বই-হায়দরাবাল

মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছে নাসার একটি পুরনো টেলিস্কোপ (NASA Telescope)। প্রায় ২২ বছর মহাকাশে কাটানোর পর নাসার Neil Gehrels Swift Observatory-র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নাসার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর ২০২৬ নাগাদ টেলিস্কোপটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে ঠিক কখন এবং কোথায় সেটি প্রবেশ করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এই ঘটনায় ভারতের কয়েকটি বড় শহরের নামও সামনে এসেছে। সম্ভাব্য রি-এন্ট্রি করিডরের মধ্যে মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই-সহ দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু এলাকা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই শহরগুলির কোনও একটিতে টেলিস্কোপের ধ্বংসাবশেষ পড়বেই। বরং এই শহরগুলি একটি বিস্তৃত সম্ভাব্য অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে।


নাসার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন স্পেস ফোর্সের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী Swift Observatory-র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সম্ভাব্য সময় ৪ নভেম্বর ভোর ৩টা ৩০ মিনিট (EST)। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা প্রায় ৪ নভেম্বর দুপুর ২টো। তবে সময়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অর্থাৎ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেলিস্কোপটির প্রকৃত রি-এন্ট্রি পয়েন্ট নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নাও হতে পারে।

Swift Observatory-কে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ২০ নভেম্বর ২০০৪ সালে। মূলত মাত্র কয়েক বছরের জন্য তৈরি হলেও টেলিস্কোপটি প্রায় ২২ বছর ধরে কাজ করেছে।

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা কোনও মহাকাশযানের উপর পৃথিবীর অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলও সামান্য টান সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই বায়ুমণ্ডলীয় টানের কারণে মহাকাশযানের কক্ষপথ ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে। Swift-এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সূর্যের কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের ঘনত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। ফলে টেলিস্কোপটির কক্ষপথ ক্ষয়ের গতি আরও বেড়েছে। নাসার অনুমান অনুযায়ী, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় Swift-এর বেশিরভাগ অংশই প্রচণ্ড তাপে পুড়ে যাবে।

তবে মহাকাশযানের কিছু অপেক্ষাকৃত ঘন ও শক্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে না গিয়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে টেলিস্কোপের কিছু টাংস্টেনের অংশ এবং আয়নার কিছু উপাদান বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ অংশ সমুদ্র হওয়ায়, কোনও ধ্বংসাবশেষ বেঁচে থাকলে সেটি সমুদ্রে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

Swift Observatory-র কক্ষপথের inclination প্রায় ২০.৬ ডিগ্রি। ফলে এর সম্ভাব্য রি-এন্ট্রি অঞ্চল মোটামুটি পৃথিবীর ২০.৬ ডিগ্রি উত্তর থেকে ২০.৬ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

ভারতের ক্ষেত্রে এর অর্থ হল দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের একটি বড় অংশ সম্ভাব্য করিডোরের মধ্যে পড়ছে। সেই কারণেই মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো শহরের নাম উঠে এসেছে।

তবে কোনও শহর এই অঞ্চলের মধ্যে থাকলেই সেখানে ধ্বংসাবশেষ পড়বে—এমনটা একেবারেই নয়। রি-এন্ট্রির নির্দিষ্ট সময় ও স্থান নির্ভর করবে মহাকাশযানের অবস্থান, উচ্চতা, বায়ুমণ্ডলীয় টান এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ের উপর।

নাসার হিসাবে, পৃথিবীর মানুষের জন্য এই ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আনুমানিক ২,১০০ জনে ১ জন বলে অনুমান করা হয়েছে।

মহাকাশযানটির অধিকাংশ অংশ বায়ুমণ্ডলেই পুড়ে যাওয়ার কথা। বেঁচে যাওয়া টুকরোগুলিও বিশাল একটি অঞ্চলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

পৃথিবীতে ফেরার আগে Swift Observatory মহাকাশবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গিয়েছে। ২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে এটি ২,০০০-এরও বেশি গামা-রে বার্স্ট শনাক্ত করেছে। পাশাপাশি প্রায় ১,৪০০টি বিস্ফোরিত নক্ষত্র এবং অসংখ্য মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে।

গামা-রে বার্স্টের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী মহাজাগতিক বিস্ফোরণ দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে Swift বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে হাবল ও জেমস ওয়েবের মতো অন্যান্য মহাকাশ টেলিস্কোপও বহু গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে।

অর্থাৎ, ২২ বছরের মহাকাশযাত্রার শেষে Swift পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এলেও, তার সংগ্রহ করা বিপুল বৈজ্ঞানিক তথ্য ভবিষ্যতের গবেষণায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—মুম্বই বা হায়দরাবাদ সম্ভাব্য রি-এন্ট্রি জোনের মধ্যে থাকলেও, ওই দুই শহরের কোনও একটিতে নাসার টেলিস্কোপের ধ্বংসাবশেষ পড়বে বলে এখনও কোনও পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রি-এন্ট্রির সঠিক স্থান আরও কাছাকাছি সময়েই পরিষ্কার হবে।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google