ISL 2026-27: এক ভারতীয় কোচের হাতে ৫-৩ গোলে হার হাবাসের ইস্টবেঙ্গলের

ISL 2026-27

আন্তর্জাতিক ব্রেকে যাওয়ার আগে আইএসএল ২০২৬-২৭ (ISL 2026-27)-এ শনিবারই ছিল ইস্টবেঙ্গলের শেষ ম্যাচ। চেন্নাইয়ন এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে শুরুটা মোটেও ভালো হল না ইস্টবেঙ্গলের। ২-০ পিছিয়ে পড়ে ব্যবধান কমিয়েও ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টির সৌজন্যে আবার ব্যবধান কমিয়েছিল কিন্তু ভুলগুলো যাবে কোথায়? এএফসি থেকে আইএসএল, একই ভুলের খেসারত দিয়ে যেতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। জঘন্য রক্ষণের খেসারত দিতে হল হাবাসের দলকে। তার উপর আনোয়ারের না থাকা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল তার উপর দলের রক্ষণের নির্ভরশীলতা। গোলের নিচে প্রভসুখন বেশ কিছু নিশ্চিত সেভ না করলে হারের ব্যবধান কোথায় পৌঁছত তা ভেবেই রাতের ঘুম উড়ে যাবে হাবাসের। যদিও ৫ গোল হজমের লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে পারল না ইস্টবেঙ্গলকে। শেষ পর্যন্ত চেন্নাইয়ের পক্ষে ব্যবধান দাঁড়াল ৫-৩ গোলের।

ম্যাচ শুরুর চার মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এর পর ১৮ মিনিটে ২-০ করেন ব্রাইসন সিং। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে গোলের বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন ইরফান। তিনিও জোড়া গোলের মালিক এই ম্যাচে। লালনুনচুঙ্গাকে কাটিয়েই ইস্টবেঙ্গল জালে বল জড়ান ব্রাইসন। ১৮ মিনিটে যেন প্রথম গোলেরও অ্যাকশন রিপ্লে দেখা গেল চেন্নাইয়ের গোলের ক্ষেত্রে। প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার মাদিহ তালালের পাস থেকে একইভাবে ফিনিশ করলেন ব্রাইসন। তাঁর জোড়া গোলেই ০-২ পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। ২৯ মিনিটে আশার আলো দেখালেন আকে লোবা।  দানি রামিরেজের থেকে বল পেয়ে একক দক্ষতায় প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ালেন লোবা। ব্যবধান কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কিন্তু তেমনটা তো হলই না বরং আরও একটি গোল হজম করে বসল।


৪০ মিনিটে সেই ব্রাইসনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেই পেনাল্টি পাইয়ে দেন জিকসন সিং। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি রামন দে  আন্দ্রাদে। ৩-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে হোম টিম। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে চোট পেয়ে মা ছাড়েন মাদিহ তালাল। সেই সুযোগ নিতেও ব্যর্থ। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল হাবাসের ছেলেদের। সেই লক্ষ্যে এডমুন্ড, ডেভিডের মতো স্কোরারকে নামিয়ে দেন তিনি। কিন্তু তার মধ্যেই আবার গোল হজম করে বসে ইস্টবেঙ্গল। ইরফান ইয়াদওয়াদের গোলে আবারও এগিয়ে  যায় চেন্নাই। যদিও তার আগে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলেরদানি রামিরেজ। ৫৯ মিনিটে ৪-২ করে চেন্নাই।

৬৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করে ফেলেন ইরফান। হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন তিনি। তবে একমাত্র প্রভসুখন সিং গিলের হাতে কিছুটা রক্ষা। শেষ বেলায় গোল করে ব্যবধান কমান ডেভিড। ততক্ষণে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ঘড়ি ছুঁয়ে ফেলেছে ৯০ মিনিটের কাটা। পাঁচ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে জয়ের স্বপ্ন নিশ্চিত দেখেনি ইস্টবেঙ্গল। তেমনটা হয়ওনি। তবে এই ম্যাচে চেন্নাইয়ের পাশাপাশি জয় হল এক ভারতীয় কোচের। ক্লিফোর্ড মিরান্ডার সঙ্গে এই জয় সব ভারতীয় কোচের, যাঁদের উপর ভরসা রাখতে কোথায় ভয় কলকাতার ক্লাবগুলোর সেটাই বড় প্রশ্ন।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, জয় গুপ্তা, দিয়েগো জিভুলিচ, লালচুংনুঙ্গা (হার্দিক ভাট), সন্দীপ মান্ডি, পিভি বিষ্ণু (এডমুন্ড লালরিনডিকা),  দানি রামিরেজ (রোহিত কুমার), জিকসন সিং, বিপিন সিং (রোহিত দানু), মহম্মদ রশিদ, আকে লোবা (ডেভিড)

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google