বলিউডের বিখ্যাত ভূতের সিনেমা রাজের কথা নিশ্চই সবার মনে আছে। ডিনো মোরিয়া আর বিপাশা বসুকে তো সবাই চেনে, যাঁরা সেই সিনেমার মূল চরিত্রে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের পাশাপাশি যিনি সেই ছবিতে সব থেকে বেশি নজর কেড়েছিলেন তিনি হলেন সেই ছবিতে ভূতের চরিত্রে যাঁকে দেখা গিয়েছিল। তিনি মালিনী শর্মা। রাজে অভিনয়ের পর তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পর পর বিভিন্ন মিউজিক ভিডিও ও টেলিভিশনে তাঁকে দেখা যায়। কিন্তু সেই সময়টা খুবই কম। দ্রুতই তিনি হারিয়ে যান বলিউড থেকে। রাজ (Raaz) সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ার যখন সাফল্যের পথে এগোতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই তিনি বলিউড থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কোথায় আছেন এখন তিনি?
বর্তমানে তিনি তারকা এই সব কিছু থেকে দূরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবনযাপন করছেন। ফিল্মের সেট ও মুম্বইয়ের প্রচারের আলো থেকে দূরে মালিনী এখন পশ্চিমঘাট পর্বতমালার উত্তরাংশ সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় থাকেন। সেখানে তিনি একটি ‘ফার্ম-স্টে’ চালান। নিজের ফার্মে শাকসবজির চাষ করেন এবং সেই উৎপাদিত ফসল দিয়েই অতিথিদের জন্য খাবার তৈরি করেন। যেমনটা সব ফার্ম স্টে-তে হয়।
২০০২ সালে বিক্রম ভাটের ‘রাজ’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে লাইমলাইটে চলে আসেন মালিনী, যেখানে তাঁর সহ-শিল্পী ছিলেন বিপাশা বসু ও ডিনো মোরিয়া। ভৌতিক এই সিনেমাটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ভূতের সিনেমা হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। যদিও তিনি মূল চরিত্রে অভিনয় করেননি, তবুও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলেন। ‘আপকে প্যায়ার মেঁ’ গানে তাঁর উপস্থিতি তাঁর সংক্ষিপ্ত বলিউড ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।
সেই একই সময়ে তিনি অভিনেতা প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রিয়াংশু ২০০১ সালে ‘তুম বিন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রেখেছিলেন। তবে কয়েক বছর পরেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদও হয়ে যায়।

দেখুন তো চিনতে পারছেন কিনা?
শোনা যায়, ২০০২ সালে ‘এনকাউন্টার’ সিনেমার শুটিং শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি সেই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর তিনি ক্যামেরার পেছনের কাজ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি বলিউড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। যদিও বলিউড ছাড়ার সময় মালিনী কোনও বড় ঘোষণা করেননি। তার পর যা হয়, ‘আউট অফ সাইড, আউট অফ মাইন্ড’, মানুষও ধিরে ধিরে তাঁকে ভুলে যায়।
পরবর্তীতে তিনি ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন, যা স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প এবং কর্মশালার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। ভারসোভাতে বিভিন্ন ‘পপ-আপ’ ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। এর আওতায় শিশুদের গল্প বলার আসর থেকে শুরু করে বাড়িতে তৈরি রুটি, গ্রানোলা, জ্যাম, পিনাট বাটার, দক্ষিণ ভারতীয় কফি ও বিভিন্ন ধরনের তেল—সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বর্তমানে তিনি পুনে থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে সহ্যাদ্রি অঞ্চলে একটি ‘ফার্ম-স্টে’ চালান। সেখানে তিনি শাকসবজি চাষ করেন এবং ফার্মে উৎপাদিত পণ্য দিয়েই অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মালিনী বলিউড ছাড়ার কারণ নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি। তবে সম্প্রতি তিনি ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে নিজের জীবনকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন; এটি খামারে তাঁর জীবনযাপনের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও ডায়েরি।
দীর্ঘ বিরতির পর ক্যামেরার সামনে তাঁর ফিরে আসার বিষয়টিও এই সিরিজের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে। প্রথম ভিডিওটি শেয়ার করার সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘‘দীর্ঘদিন পর আবার ক্যামেরার মুখোমুখি… এবার আমি একদম নিজের মতো—কোনও মেকআপ নেই, কোনও সংলাপ নেই, একেবারে হৃদয় থেকে করা শুটিং।’’
পাশাপাশি, বহু বছর ধরে মানুষের মনে জমে থাকা একটি প্রশ্নেরও তিনি উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘হাই, আমি মালিনী। ‘রাজ’ (Raaz) সিনেমার ২৩ বছর পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। আপনারা যারা ভাবছিলেন আমি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম, তাদের বলি—আমি ভালোই আছি। ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিজ’ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।’’
যাঁদের ২০০০ সালের শুরুর দিকের কথা মনে আছে, তাঁদের কাছে মালিনী সম্ভবত ‘বোম্বে ভাইকিংস’-এর ‘ক্যা সুরত হ্যায়’ গানের মুখ হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। পরবর্তীতে তিনি মিকা সিং-এর ‘সাওয়ান মে লগ গয়ি আগ’ গানেও ছিলেন। এ ছাড়া তিনি নাফিসা জোসেফ ও কুলজিৎ রানধাওয়ার সঙ্গে ‘ক্যাটস’ নামক টেলিভিশন শো-তেও অভিনয় করেছিলেন। তাহলে কি আবার পর্দায় ফিরবেন মালিনী? যদিও রাজের মালিনী আর বর্তমান মালিনীর চেহারার মধ্য এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
