Kedarnath Flood-র ১৩ বছর, এই ধ্বংসলীলা কীভাবে সচেতন করেছে বিজ্ঞানীদের

Kedarnath Flood

দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ১৩ বছর। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও তাজা সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি। ভারতের প্রাকৃতিক ধ্বংসের তালিকা করা হলে শীর্ষেই থাকবে কেদারনাথের বন্যা (Kedarnath Flood)। যা যেমন ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, তেমনি উঠে এসেছিল একাধিক অকল্পনীয় ঘটনার নজির। এই সেই দিন, যেদিন থেকে শুরু হয়ে দু’দিন ধরে তান্ডবলীলা চালিয়েছিল প্রকৃতি। ১৩ বছর পর ফিরে দেখা যাক সেই কঠিন সময়কে।

২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তরাখণ্ডে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ফলে ৫০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং কেদারনাথ এলাকাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৬ জুনের সন্ধ্যা থেকে ১৭ জুনের সকাল পর্যন্ত—অর্থাৎ চূড়ান্ত প্রলয়ঙ্করী বন্যার আগের ১২ ঘণ্টায়—ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রত্যক্ষদর্শী ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাবের কারণে নানা জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। সেই সময় যে কত মানুষ নিখোঁজ হয়েছিল, যাদের আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার এমন নজিরও রয়েছে, সেই সময় হারিয়ে যাওয়া শিশুকে অনেকদিন পর তার বাবা, মা ফিরে পেয়েছে অলৌকিকভাবে। তবে প্রকৃতির রোষ যেভাবে মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই, ঠিক সেভাবে প্রকৃতি বিভিন্ন সময়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা আগাম বোঝার ক্ষমতা বর্তমান প্রযুক্তিতে প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের কাছে রয়েছে। আর কেদারনাথের এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা চোখ খুলে দিয়েছে সেই পরীক্ষা-নিরিক্ষার।


পৃথিবী পর্যবেক্ষণ (Earth observation) প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টিপাত, ভূমিধস, তুষারাবৃত এলাকা এবং ডিজিটাল এলিভেশন মডেলের (DEM)-এর মতো বিভিন্ন আনুষঙ্গিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই ধরনের স্থানীয় তথ্যের পাশাপাশি সীমিত প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে, উচ্চ মন্দাকিনী উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হিসেবে চিহ্নিত ঘটনাপ্রবাহকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগের ক্ষেত্রে যাতে আগাম সতর্ক হওয়া যায়। সেই বৈজ্ঞা‌নিক প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করাটাই মূল লক্ষ্য।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ১০-১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি পৃথক ঘটনা ঘটেছিল: প্রথম ঘটনাটি ছিল ধারাবাহিক ভূমিধস, নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হওয়া, বাঁধ ভেঙে যাওয়া, বন্যা এবং নদীর তীর ধসে পড়ার মতো একাধিক ঘটনা; অন্যদিকে দ্বিতীয় ঘটনাটি মূলত চোরাবাড়ি তাল হ্রদের বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা এবং এর সঙ্গে যুক্ত ভূমিধস ও তীর ভাঙার মতো ঘটনা।

ভূমিধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্য গাণিতিক সিমুলেশন পদ্ধতির সাহায্যে প্রক্রিয়া-ভিত্তিক মডেলিং প্রয়োজন। বর্তমান গবেষণায় ভূমিধস বা ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের (debris flow) গতিবিধি বিশ্লেষণ এবং কেদারনাথের ঘটনায় ঘটা ভূমিধসের সিমুলেশন বা প্রতিরূপ তৈরির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাহ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো নির্ণয় করে এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এখানকার অনন্য ভূ-প্রাকৃতিক বিন্যাস—যা সাম্প্রতিক ঘটনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিকারমূলক পদক্ষেপের সমালোচনামূলক মূল্যায়নের জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে। অলকানন্দার উপনদী বিরহি গঙ্গার ‘গোহনা তাল’ হ্রদের বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে কেদারনাথের ঘটনাটি সম্পর্কে আরও গভীর অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া গিয়েছে এবং এটি দেখিয়েছে যে কীভাবে যথাযথ প্রস্তুতি এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতে পারে।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle