দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ফের উৎসবের আমেজ। রাত পোহালেই ২৫ অক্টোবর রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো (Lakshmi Puja 2026)। আশ্বিনের পূর্ণিমা তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই রাতে দেবী লক্ষ্মী ঘরে ঘরে বিচরণ করেন এবং যে বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও ভক্তিভরে সাজানো থাকে, সেখানে তাঁর আশীর্বাদ থাকে। তাই পুজোর আগের দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় ঘর গোছানো ও প্রস্তুতির পালা।
শুধু পুজোর সামগ্রী কিনে রাখলেই হবে না। ঘর পরিষ্কার করা, পুজোর জায়গা তৈরি, আলপনা দেওয়া, নৈবেদ্য সাজানো—সব কিছু আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে পুজোর দিন ব্যস্ততা অনেকটাই কমে যায়।
লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হল ঘর পরিষ্কার করা। বাড়ির প্রতিটি ঘর ভালো করে ঝাড়পোঁছ করার পাশাপাশি বিশেষ নজর দিন ঠাকুরঘর, প্রবেশপথ এবং পুজোর জায়গায়। অনেক বাঙালি বাড়িতে বিশ্বাস, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে দেবীর আগমনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘরকে যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখাই ভালো।
লক্ষ্মীর প্রতিমা বা ছবি কোথায় বসানো হবে, সেটি আজই ঠিক করে রাখুন। পুজোর জায়গায় পরিষ্কার কাপড় পেতে তার উপর আসন তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিমা বা ছবির সামনে প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার জন্য আলাদা জায়গা রাখুন। এতে পুজোর সময় জিনিসপত্র খুঁজতে সমস্যা হবে না।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ এই আলপনা। চালের গুঁড়ো দিয়ে বাড়ির প্রবেশপথ থেকে পুজোর জায়গা পর্যন্ত আলপনা দেওয়া অনেক বাড়ির ঐতিহ্য। বিশেষ করে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার চল রয়েছে। বিশ্বাসের জায়গা থেকে অনেকেই মনে করেন, এই পায়ের ছাপ দেবীর ঘরে আগমনের প্রতীক। তবে এটি মূলত পারিবারিক রীতি ও লোকাচারের অংশ—বাড়ির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলপনা সাজানো যেতে পারে।

পুজোর দিন যাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের জন্য বাজারে ছুটতে না হয়, তাই আজই তালিকা তৈরি করে সব সামগ্রী সংগ্রহ করে রাখুন। সাধারণভাবে যা যা লাগতে পারে লক্ষ্মী পুজোয় তার একটি তালিকা দেওয়া হল—
- লক্ষ্মীর প্রতিমা বা ছবি
- পরিষ্কার আসন ও পুজোর কাপড়
- ঘট ও আম্রপল্লব
- নারকেল
- ধান ও চাল
- দুর্বা ও ফুল
- মালা
- চন্দন ও সিঁদুর
- ধূপ ও প্রদীপ
- ঘি বা তেল
- গঙ্গাজল
- ফল
- মিষ্টি
- দুধ, দই, মধু ও চিনি
- পান ও সুপারি
- নৈবেদ্যের অন্যান্য উপকরণের মধ্যে থাকছে পাঁচ রকমের সবজি
অবশ্য পরিবার ও স্থানীয় রীতি অনুযায়ী পুজোর সামগ্রীর তালিকায় পার্থক্য থাকতে পারে।
লক্ষ্মীপুজোয় ভোগেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাড়ির রীতি অনুযায়ী খিচুড়ি, নানা ধরনের তরকারি, ফল, মিষ্টি, নারকেল, মুড়ি বা অন্যান্য নৈবেদ্য দেওয়া হয়। কেউ কেউ পায়েস বা মিষ্টি তৈরি করেন। পুজোর দিন রান্নার চাপ কমাতে কিছু প্রস্তুতি আগের দিন করে রাখা যেতে পারে। তবে নৈবেদ্য যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে এবং পরিবারের প্রচলিত রীতি মেনে তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপুজোর দিন নতুন পোশাক পরার রীতি রয়েছে। তাই বাড়ির সদস্যদের পোশাকও আজই গুছিয়ে রাখা যেতে পারে। পুজোর জায়গায় ফুল, মালা, প্রদীপ, কলাগাছ বা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা ব্যবহার করা যায়। খুব বেশি জাঁকজমক না করেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর করে পুজোর জায়গা সাজানো সম্ভব।
পুজোর দিন যাতে শেষ মুহূর্তে কোনও দৌড়ঝাঁপ না হয়, তার জন্য প্রদীপ, ধূপ, ফুল, নৈবেদ্য, পুজোর বই এবং অন্যান্য সামগ্রী এক জায়গায় সাজিয়ে রাখুন।
পুজোর সময় ও বিধি নিয়ে পরিবারে যে রীতি প্রচলিত রয়েছে, সেটিই অনুসরণ করুন। নির্দিষ্ট পুজোর সময় জানতে স্থানীয় পুরোহিত বা আপনার অনুসৃত পঞ্জিকা দেখে নেওয়া ভালো। কারণ স্থান ও পঞ্জিকা অনুযায়ী সময়ের সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বাঙালির কাছে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, পারিবারিক মিলনেরও একটি উপলক্ষ। পুজোর প্রস্তুতিতে বাড়ির সবাইকে যুক্ত করলে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়ে। কেউ আলপনা দেবেন, কেউ ফুল সাজাবেন, কেউ নৈবেদ্য তৈরি করবেন, আবার কেউ পুজোর সামগ্রী গুছিয়ে রাখবেন—এভাবেই তৈরি হয় বাড়ির নিজস্ব লক্ষ্মীপুজোর আবহ।
তাই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এড়াতে আজই বাড়ি পরিষ্কার করে ফেলুন, পুজোর জায়গা সাজিয়ে নিন, প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে রাখুন এবং নৈবেদ্যের পরিকল্পনা করে ফেলুন। পুজোর দিন মন শান্ত রেখে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই হোক মূল লক্ষ্য।
২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় ঘরে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও শুভ সময়ের আলো—শুভ লক্ষ্মীপুজো।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
