ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে শেষ হাসি হাসল ভারত। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে একসময় ৭০/৫ হয়ে গিয়েছিল ভারত। সেখান থেকে তিলক ভার্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডির দুরন্ত ব্যাটিংয়ে এক বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ১৮১ রান তুলে দ্বিতীয় টি২০ (NZ vs IND 2nd T20) ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারাল ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এখন ২-০ এগিয়ে। ম্যাচের সেরা তিলক ভার্মা। ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিনি।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। ঈশান কিষান চোটের জন্য এই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ায় প্রথম একাদশে ফিরে আসেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। তবে তাঁকে ওপেনিংয়ে না পাঠিয়ে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয়।
নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই অর্শদীপ সিংয়ের বলে টিম সেইফার্ট ৭ রানে ফিরে যান। এরপর প্রিন্স যাদবের বলে ফিন অ্যালেন ১৬ এবং ভুবনেশ্বর কুমারের বলে ড্যারল মিচেল ৬ রান করে আউট হন। মাত্র ৪১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিউয়িরা। সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘোরান গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবস। দু’জনে চতুর্থ উইকেটে ১১৬ রানের জুটি গড়েন। ফিলিপস মাত্র ৪৩ বলে ৭০ রান করেন—তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছক্কা।
জ্যাকবসও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। ৪৬ বলে ৫৮ রান করেন তিনি, মারেন পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। তাঁদের জুটির সুবাদে ২০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৮০। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। প্রিন্স যাদব ৩০ রানে ১ এবং ভুবনেশ্বর কুমার ৫০ রানে ১ উইকেট নেন।
১৮১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভারতও স্বস্তিতে ছিল না। বৈভব সূর্যবংশীর প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় হল না। তিন নম্বরে নেমে মাত্র ৪ রান করে আউট হন ১৫ বছরের এই ব্যাটার। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে ভারতকে চাপে রাখেন। একসময় ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৭০/৫। ম্যাচ তখন কার্যত নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে নমান ধীর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। মাত্র ১৭ বলে ৩১ রান করে তিনি ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতকে প্রয়োজনীয় রানরেটের কাছাকাছি রাখে। কিন্তু নমন ফিরে যাওয়ার পরও ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের হাতে আসেনি।
শেষ দিকে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিলক ভার্মা। ভারতীয় সহ-অধিনায়ক নিজের উপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ রেখে ব্যাট করে যান। ২৬ বলে তাঁর অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। তিলকের সঙ্গে যোগ দেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। শেষ ৩০ বলে দু’জনে ৬৯ রান যোগ করে ম্যাচের মুখ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন। নীতীশ মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন।
শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল হাতে থাকা উইকেটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ১১ রান। জ্যাকব ডাফির ওভারে তিলক স্ট্রাইক ঘুরিয়ে দেন। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দুই রান। ডাফির ফুলটসকে ডিপ মিড-উইকেটের দিকে খেলিয়ে নীতীশ দুই রান সম্পূর্ণ করেন। ১৯.৫ ওভারে ভারত ৬ উইকেটে ১৮১ রান তুলে নেয়।
চাপের মুহূর্তে ২৬ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন তিলক ভার্মা। তাঁর ইনিংস শুধু ভারতকে জয় এনে দেয়নি, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে ম্যাচ শেষ করতে হয় তারও নিদর্শন হয়ে থাকল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড — ১৮০/৫ (২০ ওভার)
গ্লেন ফিলিপস ৭০, বেভন জ্যাকবস ৫৮
অর্শদীপ সিং ২/৩৩
ভারত — ১৮১/৬ (১৯.৫ ওভার)
তিলক ভার্মা ৫১*, নীতীশ কুমার রেড্ডি ২৬*, নমান ধীর ৩১
মিচেল স্যান্টনার ৪/২১
ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ভারত ২-০ এগিয়ে
ম্যাচের সেরা: তিলক ভার্মা
এই জয় ভারতের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৭০/৫ থেকে ম্যাচ বের করে আনা দলের লোয়ার-মিডল অর্ডারের মানসিক দৃঢ়তা এবং তিলক-নীতীশের চাপ সামলানোর ক্ষমতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
