Durand Cup 2026 Final: এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে মোহনবাগানকে হারিয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

Durand Cup 2026 Finalছবিঃ ডুরান্ড কাপের এক্স থেকে

Durand Cup 2026 Final:

ইস্টবেঙ্গল: ৪ (বিপিন সিং, এডমুন্ড-৩)


মোহনবাগান: ১ (মনবীর সিং)

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ততক্ষণে ফাঁকা গ্যালারির আতঙ্ক কাটিয়ে ভরে গিয়েছে যুবভারতী। সাধারণত, ডুরান্ড কাপে গ্যালারি ভরে না। তবে এদিন এক্কেবারে ডার্বির আবহ যুবভারতী জুড়ে। শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা। দুই গ্যালারি কানায় কানায় ভর্তি। তার মধ্যেই শুরু থেকেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা দেখা গেল মোহনবাগানের মধ্যে। বার কয়েক ঢুকে পড়ল ইস্টবেঙ্গলের বক্সে।  কখনও লিস্টন, কখনও ম্যাকলারেন। কিন্তু গোলের মুখ খুলল ইস্টবেঙ্গলই। তার পর, পর পর তিন গোল। লাল-হলুদ গ্যালারিতে তখন আগাম উৎসব। হতাশায় মোহনবাগান গ্যালারিতে পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে তখন। এর মধ্যেই অবশ্য ব্যবধান কমাল মোহনবাগান। তাতেই যা স্বস্তি ফিরল সবুজ-মেরুন গ্যালারিতে। যে পরিমাণ আত্মবিশ্বাস ইস্টবেঙ্গলের খেলায় দেখা গেল তাতে এদিন পাঁচ গোলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন সমর্থকরা নিশ্চিত। কিন্তু সন্তুষ্ট থাকতে হল ৪-১ গোলের ব্যবধানেই। দ্বিতীয়ার্ধে কোনও গোল করতে পারল না কোনও দলই। ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে হাজার হাজার বাতি জ্বলল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে। মশালের ঝলকানিতে ডুবে গেল পালতোলা নৌকা। ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল।

এদিন ১০ মিনিটেই গোলের মুখ খুলে ফেলেছিলেন বিপিন সিং। বক্সের মধ্যে রশিদের পাশ ধরে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডার শুভাশিস ও রাহুল ভেকেকে কাটিয়ে বিপিনের বাঁ পায়ের শট আটকাতে এগিয়ে এসেছিলেন বিশালও। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তার দুই মিনিটের মধ্যেই এডমুন্ডের গোলে ২-০ করল ইস্টবেঙ্গল। এবার মোহনবাগানের রাহুল ভেকে আর অ্যালবার্তোর রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ালেন ইস্টবেঙ্গলের ১০ নম্বর জার্সি। না এখানেই শেষ নয়, প্রথমার্ধেই নিজের হ্যাটট্রিকটিও সেরে ফেললেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। তার আগে অবশ্য একগোল শোধও করল মোহনবাগান। এক কথায় ডার্বির ইতিহাসে এই প্রথম প্রথমার্ধেই পাঁচ গোলের টানটান ম্যাচ উপহার দিল ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর ফাইনাল।

প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের গোলের সময় ১০, ১২, ২২, ৪৪ মিনিট। মাঝে ৩৩ মিনিটে মোহনবাগানের এক গোল শোধ। এদিন অপ্রিতরোধ্য দেখাল রশিদ, এডমুন্ডদের। গোলের নিচে বার দু’য়েক কিছুটা সমস্যায় পড়লেও লিস্টনের ফ্রিকিক মাথার উপর দিয়ে যেভাবে বাঁচালেন তাতে স্বস্তি পেল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি। ডাগআউটে বৃষ্টিতে চপচপে ভেজা শরীরেও উত্তাপ ছড়াল হাবাসের উচ্ছ্বাস। তার মধ্যেই ৩-১ করে কিছুটা আশা জাগালল মোহনবাগানও। ৩৩ মিনিটে আপুইয়ার পাস থেকে মনবীরের বাঁ পায়ের অসাধারণ একটা ফিনিশের নাগাল পেলেন না গিল। তবে সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। ৪৪ মিনিটে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে ভূমিকা রেখে গেলেন রশিদ থেকে জয় গুপ্তা। রশিদের ফ্রি কিক থেকে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় দাড়িয়ে থাকা জয় গুপ্তার পাস ধরে বল নিয়ে গোলে ঢুকে পড়লেন এডমুন্ড। তাঁর গায়ে লেগে থেকেও আটকাতে ব্যর্থ আপুইয়া।

আপুইয়াকে এদিন কেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সে খেলালেন কোচ পানোস সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। তার সঙ্গে আরও একটা প্রশ্ন নিশ্চয়ই উঠবে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে, যখন তিনি গোলের মধ্যে থাকা সাহালকে বেঞ্চে বসিয়ে দল সাজালেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও তাঁকে নামালেন না কোচ। ৬২ মিনিটে সাহাল, কিয়ান, টাংরিকে নামিয়ে খেলায় গতি আনার চেষ্টা করলেন তিনি। ৬৫ মিনিটে আরও একটি গোল পেয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু বিপিনের শট বাঁচিয়ে দিলেন বিশাল। ৭০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করলেন হাবাসও। এডমুন্ডের জায়গায় আসিফ আর রামিরেজের জায়গায় জেসিন টিকে-কে নামিয়ে ৪-১ গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে রক্ষণকে পোক্ত করলেন। তাতে সফল তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে কোনও গোলই হল না কোনও পক্ষের তরফে। ২০০৪-এ ডার্বি জিতেই ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর আবার ইস্টবেঙ্গলের ঘরে এল ডুরান্ড কাপ, এবারও সেই চিরশত্রুকে হারিয়ে।

হাবাস আগের দিন প্রিম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, ৯০ মিনিটে এই ম্যাচ শেষ করতে চান তিনি কারণ মোহনবাগান গোলের নিচে রয়েছেন বিশাল কেইথ। সেই লক্ষ্যেও সফল হাবাস। হাবাসের মগজাস্ত্রেই বধ মোহনবাগান। যা প্রথম ম্যাচে করতে পারেননি তা ফাইনাল ম্যাচে করে দেখালেন তিনি। এখানেই যেন কিছুটা পিছিয়ে পড়লেন পানাজিওটিস দিমপেরিস।

কে কোন পুরস্কার পেল

সেরা গোলকিপারঃ বিশাল কেইথ (গোল্ডেন গ্লাভস)

সেরা স্ট্রাইকারঃ আলাদিন আজারে (গোল্ডেন বুট)

সেরা ফুটবলারঃ এডমুন্ড লালরিনডিকা (গোল্ডেন বল)

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, হার্দিক ভাট, লালচুংনুঙ্গা, আনোয়ার আলি, সন্দীপ মান্ডি,  জয় গুপ্তা, বিপিন সিং (রোহিত দানু), ড্যানিয়ের ফার্নান্ডেজ (জেসিন টিকে), মহম্মদ রশিদ, জিকসন সিং, এডমুন্ড লালরিনডিকা (মহম্মদ আসিফ)

মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, অভিষেক সিং, রাহুল ভেকে, আলবার্তো রডরিগেজ, শুভাশিস বসু, অনিরুদ্ধ থাপা (দীপক টাংরি), আপুইয়া (কিয়ান নাসিরি), সামীর জেলকোভিচ (মিগুয়েল ফেরেরা), মনবীর সিং (মনবীর সিং), লিস্টন কোলাসো (সাহাল আব্দুল সামাদ), জেমি ম্যাকলারেন

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle