Mohun Bagan Super Giant-এর কোচের দায়িত্ব নিয়েই হুঙ্কার পানাগিওটিস দিমপেরিসের

Mohun Bagan Super Giant

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের (Mohun Bagan Super Giant) হেড কোচের হট সিটে এ বার বসবেন পানাগিওটিস দিমপেরিস। প্যানোস নামে যাঁর পরিচিতি। গ্রিক কোচের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি হল সবুজ মেরুনের। গ্রিসের প্রথম ডিভিশনের বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করানোর পর গত বছর ভারতে এসে পঞ্জাব এফ সি-র দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। পঞ্জাবের নতুন দলকে কোচিং করিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষনীয় ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন সবুজ মেরুনের নতুন হেড স্যার। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নতুন বিদেশি ও যুব ফুটবলার নিয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন দল গড়েও নজর কেডে়ছিল তাঁর স্ট্র্যাটেজি। মূলত আক্রমনাত্মক অথচ ব্যালান্স ফুটবলের দর্শনে বিশ্বাসী পানোস। একান্ন বছর বয়সী এই কোচের সুবিধা তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে দলে সমন্বয় ঘটিয়ে সফল হয়েছেন। সেজন্যই তাঁর হাতে নতুন মরসুমে দল পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট ম্যানেজমেন্ট। চুক্তিতে সই করার পর এমবি এসজি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাঁর ফুটবল দর্শন, তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়ে ভাবনার কথা বলেছেন পানাগিওটিস দিমপেরিস যা বললেন……

প্রশ্ন- অন্য অনেক ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও কেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের টিমকে কোচিং করানোর জন্য বেছে নিলেন ?


উত্তর- আসলে মোহনবাগান কেবল একটি ফুটবল ক্লাব নয়— একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য সমর্থক। যা ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই।

প্রশ্ন- যে দল নিয়ে কোচিং করাতে নামবেন, সেই দল নিয়ে কী আপনি সন্তুষ্ট?

উত্তর- হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি একটি শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান দল হাতে পাচ্ছি, যেখানে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার একটি চমৎকার ভারসাম্য আছে। প্রত্যেক কোচই সবসময় উন্নতির নতুন পথ খোঁজেন, তবে আমার মূল লক্ষ্য থাকবে, আমি যে দলকে কোচিং করাব তাদের সবাইকে সক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে। সাফল্য কখনও একক ব্যক্তিগত প্রতিভা থেকে আসে না, বরং সঠিক মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আসে।

প্রশ্ন- মোহনবাগানের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছেন বিশ্বজুড়ে, যাদের প্রত্যাশাও প্রচুর। আপনি তাদের এই বিশাল প্রত্যাশার চাপ কীভাবে সামলানোর পরিকল্পনা করছেন?

উত্তর- একটি কথা আছে, Pressure is a privilege। বিশ্বের সব বড় ক্লাবগুলোতেই প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে এবং সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের এই আবেগই ক্লাবের অন্যতম প্রধান শক্তি। আমাদের দায়িত্ব হলো কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং এই মহান ক্লাবের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিদিন তাদের বিশ্বাস অর্জন করা। আমরা হয়তো প্রতি সপ্তাহে জয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে পারব না, কিন্তু আমরা এমন একটি দল হয়ে উঠতে চাইব যারা সাহসিকতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে, লড়াই করবে।

প্রশ্ন- আপনার কোচিং জীবনে আপনি কি এমন কোনও ক্লাবের দায়িত্ব সামলেছেন যাদের সমর্থকরা মোহনবাগান সদস্য সমর্থকদের মতো এতটা আবেগপ্রবণ?

উত্তর- আমি সৌভাগ্যবান যে এর আগে এমন কিছু ক্লাবে কাজ করেছি যেখানে সমর্থকরা সাফল্য ছাড়া কিছু বুঝতেন না, তবে মোহনবাগান অনন্য। এখানে আসার আগেই আমি ক্লাব এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যকার আবেগঘন সম্পর্কের কথা বুঝতে পেরেছিলাম। মোহনবাগান ক্লাবের পরস্পরা কেবল ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি আত্মপরিচয়, গর্ব এবং ঐতিহ্যের এক মেলবন্ধন। আমি এখানে কোচিং করতে নামব সেই চ্যালেঞ্জকে সঙ্গে নিয়েই। আমি মাঠের সেই বিশেষ আবেগের বিস্ফোরিত পরিবেশ অনুভব করার জন্য মুখিয়ে আছি।

প্রশ্ন- দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনাকে কলকাতা ডার্বিতে নামতে হবে। কলকাতা ডার্বি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?

উত্তর- ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর। আর ভারতে আসার পরই জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর একটি। সমর্থক, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, তা আমি জানি। এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সেরা উপায় কেবল আবেগ নয়, বরং চমৎকার প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করব, তবে একই সঙ্গে মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সাথে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে এই ডার্বি জিততেও চাইব।

প্রশ্ন- ভারতীয় ফুটবলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ধারাবাহিক সাফল্যের রাস্তায় আছে। এই অবস্থায় দল নিয়ে আপনার মূল লক্ষ্য কী হবে?

উত্তর- আপনি যখন মোহনবাগানের মত হাই প্রোফাইল ক্লাবের কোচিং করাবেন, তখন লক্ষ্য থাকতে হবে সবসময় প্রতিটি ট্রফির জন্য লড়াই করা। অতীতে যা অর্জিত হয়েছে তাকে আমরা সম্মান করি, কারণ টানা চ্যাম্পিয়ন হওয়া কখনোই সহজ কাজ নয়। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এমন একটি দল গঠন করে এবং প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে যা হবে আকর্ষণীয় এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ। যা জয়ের রাস্তা খুলে দেবে। প্রতিটি মরশুমই নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনে। কঠোর পরিশ্রম এবং ক্লাবের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামব আমরা।

প্রশ্ন- মাঠে নামার আগে সবুজ মেরুন সমর্থকদের জন্য কী বার্তা দিতে চান?

উত্তর- সমস্ত মোহনবাগান সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই ক্লাব আপনাদের কাছে কতটা আবেগের জায়গা তা আমি জানি। এই ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর দায়িত্ব কতটা বেড়ে যায়, তাও আমি বুঝি। ক্লাব ম্যানেজমেন্ট, আমার কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব যাতে সবুজ মেরুন সমর্থকরা গর্বিত হতে পারেন। আমাদের আপনাদের সমর্থনের শক্তি প্রয়োজন, কারণ দল এবং সমর্থকরা যখন এক হয়ে এগিয়ে চলে, তখনই ফুটবল সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ট্রফি জয়ের জন্য যা দরকার।

কপি— এমবি এসজি মিডিয়া টিম

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle