ইউএস ওপেন ২০২৬-এর প্রথম রাউন্ডে আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনির কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যাওয়ার সময় শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলে জানিয়েছেন নোভাক জকোভিচ (Novak Djokovic)। তিনি জানান, খেলার এক পর্যায়ে তাঁর শরীর যেন ‘ভেঙে পড়ছিল’। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী জকোভিচ ৭-৬(৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ সেটে নাভোনির কাছে পরাজিত হন এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেন। এটিপি (ATP) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই পরাজয়ের ফলে ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর থেকে কোনও মেজর টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড পার করার যে দীর্ঘ রেকর্ড জকোভিচের ছিল, তারও অবসান ঘটল।
ম্যাচ শেষে সার্বিয়ান এই কিংবদন্তি জানান, পুরো মরসুম জুড়েই তিনি এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন এবং নিজের সেরাটা দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এটিপি ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি অনুযায়ী জকোভিচ বলেন, ‘‘আমার মনে হয় এটা স্পষ্ট ছিল যে কোর্টে আমার অনুভূতি খুবই বাজে ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, এ বছর প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আমাকে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।’’
টেনিসের এই কিংবদন্তি ব্যাখ্যা করেন যে, ম্যাচের সময় তিনি বমি, পেশিতে টান (ক্র্যাম্প) এবং ব্যথার মতো সমস্যায় ভুগেছিলেন, যা তাঁর নড়াচড়া এবং ম্যাচটি জয় করে শেষ করার সক্ষমতাকে ব্যাহত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘‘বমি হওয়াটা একটা বড় সমস্যা ছিল। এরপর আমার পুরো শরীর যেন ভেঙে পড়ছিল—মূলত পেশিতে টান ও ব্যথা হচ্ছিল। শেষদিকে আমার পিঠ ও কাঁধ আর কাজ করছিল না, তাই আমি ম্যাচটি আর নিজের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারিনি।’’
জকোভিচ তৃতীয় সেট জিতেছিলেন এবং চতুর্থ সেটেও এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু এরপর নাভোনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জকোভিচ জানান, তিনি লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন।
জকোভিচ বলেন, ‘‘চতুর্থ সেটে আমি এক পর্যায়ে এগিয়ে (ব্রেক আপ) ছিলাম, কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ গেম থেকেই আমাকে বেশ ধুঁকতে হয়েছে। তবে আমি তাঁর জয়কে খাটো করে দেখতে চাই না। তাঁকে অভিনন্দন। সে একজন ভালো মানুষ এবং লড়াকু খেলোয়াড়। কিন্তু আমি নিজে খেলাটা উপভোগ করতে পারিনি।’’
সার্বিয়ান এই কিংবদন্তি জানান, তৃতীয় সেট জেতার পর তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শারীরিক সমস্যার কাছে হার মানতে হয়। ‘‘আমি একটা সেট জিতলাম এবং তারপর তৃতীয়টাও। তখন মনে হল, ‘আচ্ছা, হয়তো একটা সুযোগ আছে’। চতুর্থ বা পঞ্চম সেটে হাল ছাড়তে চাইনি, তাই ম্যাচটা শেষ করতে চেয়েছিলাম,’’ যোগ করেন জকোভিচ।
নির্ণায়ক সেটে ১-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার সময় নিউ ইয়র্কের দর্শকরা জকোভিচকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। ৩৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় এতে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে তাঁর চোখও ছলছল করে ওঠে।
‘‘দর্শকরা দারুণ আচরণ করেছেন। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। তবে ম্যাচের কথা যদি বলি—খেলা চলাকালীন আমার শরীর ও সামগ্রিক অনুভূতির দিক থেকে বিষয়টি মোটেও উপভোগ্য ছিল না। কোর্টে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই আমার কাছে ছিল যন্ত্রণাদায়ক,’’ বলেন জকোভিচ।
তিনি আরও বলেন, ‘‘তবে দর্শকদের সমর্থন ও ভালোবাসার দিক থেকে বিচার করলে শুরু থেকেই সবকিছু ছিল অবিশ্বাস্য। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তারা আমাকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন। তাদের জন্য যতটা ভালো খেলা উচিত ছিল বা আমি খেলতে পারতাম কিংবা খেলতে চেয়েছিলাম, তা না পারায় আমি সত্যিই দুঃখিত। তবে শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে যে ভালোবাসা ও প্রশংসা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’’
এই পরাজয়ের ফলে এবারের ইউএস ওপেনে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল জকোভিচের। চোটের কারণে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এবং দীর্ঘ বিরতির পর প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ প্রতিযোগিতায় ফেরার পরই জকোভিচের এই বিদায় ঘটল।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
