আরও একটা ফাইনাল (IPL 2026 Final), আরও একটা আইপিএল শেষের ঘণ্টা। একটা শেষের থেকেই শুরু হয়ে যায় পরের বছরের প্রস্তুতি। কেমন হবে দল, কোন প্লেয়ার থাকবে, কেই বা বাদ যাবে, কোচিং স্টাফেও আসবে পরিবর্তন। বিশেষ করে যারা এই মরসুমে সাফল্য পেল না তাদের দলেই আসবে সব থেকে বড় পরিবর্তন। আইপিএল ২০২৬-এ শুরুতে যারা স্বপ্ন দেখিয়েছিল তারা যত টুর্নামেন্ট এগিয়েছে ততই পিছিয়ে পড়েছে। আবার শুরুতে পিছিয়ে পড়া কোনও কোনও স্বপ্ন দেখিয়েছে টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে এসে। এই দুই তালিকায় দুই বড় নাম পঞ্জাব কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ পর্যন্ত আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে (IPL 2026 Final) পৌঁছালো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও গুজরাট টাইটান্স। দুই দলই একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত মরসুমেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বেঙ্গালুরু আর গুজরাট চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাদের অভিষেকের বছরেই। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বসেছিল আইপিএল ২০২৬ ফাইনালের (IPL 2026 Final) আসর। আর তাতে বাজিমাত বেঙ্গালুরুর। গত বছর পঞ্জাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার গুজরাটকে হারিয়ে পর পর দু’বার চ্যাম্পিয়ন আরসিবি। ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিলেন স্বয়ং বিরাট কোহলি। ১২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জিতে আরও একবার ট্রফি নিয়ে গেল বেঙ্গালুরু।
এদিন টস জিতে গুজরাটকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। প্রথমে ব্যাট করে যদিও বড় রানে পৌঁছতে পারেনি শুভমান গিলের গুজরাট। মাত্র ১৫৫ রানেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। এই আইপিএল অনেক বড় বড় রান দেখেছে। সেখানে ফাইনালে এই লক্ষ্যমাত্রা বেশ কম। ধরে নেওয়াই হয়েছিল খুব কঠিন হবে না বেঙ্গালুরুর জন্য। এদিন গুজরাটের হয়ে ওয়াশিংটন সুন্দর ছাড়া আর কেউই ভরসা দিতে পারেননি। পুরো টুর্নামেন্টে নিজেকে প্রমাণ করা শুভমানও এদিন ব্যর্থ। সাই সুধর্ষনকে নিয়ে ওপেন করতে নেমেছিলে শুভমান। কিন্তু দুই ওপেনারই ফিরলেন দ্রুত। সাই করলেন ১২ আর শুভমানের অবদান ১০ রানের। যার ফলে শক্ত ভিত তৈরি করতে পারেনি গুজরাট। এর পর তিন নম্বরে নেমে কিছুটা চেষ্টা করেন নিশান্ত সিন্ধু। ২০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
এছাড়া জোস বাটলার ১৯, আর্শাদ খান ১৫, রাহুল তেওয়াটিয়া ৭, জেসন হোল্ডার ৭, রশিদ খান ৭ রান করে আউট হন। ৩ রানে অপরাজিত থাকেন কাগিসো রাবাদা। অন্যদিকে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩৭ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল পাঁচটি বাউন্ডারি। ২০ ওভারে ১৫৫-৮-এই থামতে হয় গুজরাটকে। বেঙ্গালুরুর হয়ে তিন উইকেট তুলে নেন রসিখ সালাম। দু’টি করে উইকেট ভুবনেশ্বর কুমার ও জোশ হেজেলউডের। এক উইকেট নেন ক্রুনাল পাণ্ড্যে।
১৫৫ রানের লক্ষ্যে নেমে শক্ত ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার। যা খুবই জরুরী ছিল ম্যাচটিকে জয়ের পথে চালিত করার জন্য। বিরাট কোহলির সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ১৬ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তাঁর ইনিংসে ছিলটি চারটি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি। উল্টোদিকে অবশ্য প্রাচীর তৈরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। উল্টোদিকে তখন পর পর ফিরলেন রয়্যাল ব্যাটাররা। দেবদত্ত পাড়িক্কল ১, রজত পাতিদার ১৫, ক্রুনাল পাণ্ড্যে ১, টিম ডেভিড ২৪ রান করে ফেরেন। গুজরাটের হয়ে জোড়া উইকেট নেন রশিদ খান, এক ওভারেই দুই উইকেট তুলে বড় ধাক্কা দেন প্রতিপক্ষ ব্যাটিংকে। একটি করে উইকেট নেন মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা ও আর্শাদ খান।
২৫ বলে যখন বেঙ্গালুরুর জিততে ১১ রান বাকি তখন বিরাট কোহলির ক্যাচ ধরেন শুভমান গিল। বিরাট নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রিভিউ নেন, আর তাতেই দেখা যায় বল মাটি ছুঁয়েছে। বাতিল হয়ে যায় বিরাটের আউট। যে হালকা আশার আলো দেখতে পেয়েছিল গুজরাট সেটাও সেখানেই নিভে যায়। এই মরসুমে দারুণ ছন্দে রয়েছেন কোহলি, যার প্রতিফলন দেখা গেল ফাইনালেও। ৪২ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ন’টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন জিতেশ শর্মা। ১৮ ওভারে ১৬১-৫-এ শেষ করে বেঙ্গালুরু।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
