নাতালি গ্রোগর (Natalie Groeger), যিনি আগামী মাসে ১০১ বছরে পা দেবেন, সম্প্রতি তাঁর দীর্ঘ, সুখী ও সুস্থ জীবনের গোপন রহস্য শেয়ার করেছেন। কঠোর ডায়েট বা জটিল কোনও রুটিনকে দীর্ঘায়ুর কারণ হিসেবে উল্লেখ না করে তিনি দৈনন্দিন অভ্যাসের—যেমন শারীরিক কার্যকলাপ, পরিমিত আহার এবং ইতিবাচক মানসিকতার উপকারিতার কথা তুলে ধরেছেন। নিউ জার্সির বাসিন্দা নাতালি বর্তমানে এঙ্গেলউডের ‘দ্য ব্রিস্টাল’ (The Bristal) নামক প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে বসবাস করেন। ‘পিপল’ (People) ম্যাগাজিনের সঙ্গে কথপোকথনে তিনি জানান যে, প্রতিদিন সকালে নিজের যত্ন নেওয়ার একটি সাধারণ রুটিন বা অভ্যাসের মাধ্যমেই তিনি দিনটি শুরু করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান যে তিনি নিজের পছন্দের পোশাক বেছে নেন, সামান্য মেকআপ করেন এবং দিনটিকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হন।
গ্রোগর বলেন, “আমার মনে হয়, সবসময় প্রফুল্ল মন ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে তরুণ রাখে। শারীরিক কার্যকলাপও গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর পর্যন্তও আমি নিয়মিত নাচ ও হাঁটাচলা করতাম; তবে শরীর ও মনের ওপর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবও যে অনেক বড় ভূমিকা রাখে, তা-ও আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কী খাচ্ছি, সেদিকেও খেয়াল রাখি। মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের খাবার খাই ঠিকই, তবে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। প্রতিদিন সকালে উঠে আমি নিজের সাজসজ্জার দিকে নজর দিই। পছন্দের পোশাক পরি এবং সবসময় সামান্য মেকআপ করি। আমার মতে, এতে দিনটি ভালোভাবে শুরু হয় এবং মন ভালো থাকে।”
“আমি হাসি-খুশি থাকার এবং আমার আশেপাশের মানুষদের সঙ্গ উপভোগ করার চেষ্টা করি,” তিনি বললেন। “যার সাথেই দেখা হয় তার দিকেই আমি হাসি মুখে তাকাই এবং আমার বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক কথপোকথন চালাই। যেসব বিষয় আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো নিয়ে আমি দুশ্চিন্তা করি না। আমার মনে হয়, প্রতিদিন আমরা যে মুহূর্তগুলো পাই তা উপভোগ করা, ইতিবাচক থাকা এবং হাসির কারণ খুঁজে নেওয়াটা জরুরি।”
গ্রোগরের পরিবারে রয়েছেন দুই সন্তান, চার নাতনি এবং ছয়জন প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী। তিনি জানিয়েছেন যে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই নিবিড় বন্ধনই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।
তাঁর ১০০তম জন্মদিনে ৮০ জনেরও বেশি অতিথির উপস্থিতিতে এক বিশাল আয়োজন করা হয়েছিল; তবে ১০১তম জন্মদিনটিও তিনি প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে উদযাপন করার অপেক্ষায় আছেন।
তিনি বলেন, “এবারের আয়োজনটি ১০০তম জন্মদিনের মতো অত বড় হবে না। সবার সঙ্গে দিনটি কাটানোর জন্য আমি খুবই উচ্ছ্বসিত; আর জীবনের এই পর্যায়ে এসে পরিবারের সবার সঙ্গে একত্রিত থাকাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
পরিবারের সদস্যদের—বিশেষ করে নাতি-নাতনিদের—সঙ্গে তিনি কীভাবে যোগাযোগ রাখেন, সে কথাও তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা যখন আমার বাড়িতে আসে, সেই সময়গুলোর বাইরেও আমি নিয়মিত ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি।”
“তাদের দেখা পাওয়ার এবং একসাথে ভালো সময় কাটানোর প্রতিটি সুযোগই আমি কাজে লাগাই। কোনও বিশেষ উপলক্ষ উদযাপন করা হোক কিংবা কেবল গল্প-গুজব ও হাসি-ঠাট্টা—সেই সময়টুকু আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।”
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
