সুচরিতা সেন চৌধুরী: লাইনআপ হয়ে গিয়েছে মাঠের মাঝখানে। একদিকে ভারত আর অন্যদিকে ব্রাজিল। প্রথমে বেজে উঠল ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত। শেষ হতেই যুবভারতী স্টেডিয়ামের বক্সে “জনগন” বাজতেই গলা মেলালো ৫১ হাজারের গ্যালারি। এমন একটা মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্যই তো সব লড়াই। নির্ধারিত সময়ের থেকে ২ মিনিট দেরিতে শুরু হল খেলা, ভারত বনাম ব্রাজিল (India vs Brazil), ভারতীয় ফুটবল মঞ্চে লেখা হল ইতিহাস। পুজোর কলকাতায় ফুটবল উৎসবে মাতল ফুটবলপ্রেমীরা।কলকাতা শহরে পুজোর গন্ধ লেগেছে আগেই। কাশফুলের দল মাথা দুলিয়ে তা জানানও দিচ্ছে। সঙ্গে বাজারে বাজারে নতুন জামা-কাপড়ের সম্ভার থেকে সেরাটা বেছে নেওয়ার লড়াই। আর সেই শপিং তালিকায় এবার যুক্ত হয়ে গিয়েছিল আরও একটা উৎসব, ফুটবলের উৎসব। সঙ্গে পুজোর শপিংয়ের তালিকায় যুক্ত হয়ে গেল ভারত আর ব্রাজিলের জার্সি থেকে উত্তরীয়। শনিবার যুবভারতীর আশপাশে শুধুই কোথাও নীল, আবার কোথাও হলুদ জার্সির পসরা। বিক্রিও হল জমিয়ে। ৫১ হাজার ৪০২-এর গ্যালারি থেকে প্রতিটা মুভেই হুঙ্কার শোনা গেল। কলকাতার দর্শক গলা ফাটাল ভারত, ব্রাজিল দু’পক্ষের হয়েই। সাম্বা জাদুতে শেষ হাসি হাসল ব্রাজিলই, ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে সেজে উঠতে শুরু করেছিল কলকাতার ফুটবল মহল। ঘন ঘন সাংবাদিক সম্মেলন। তৎপ়ড়তা ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে থেকে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীদের এই ম্যিচ নিয়ে নানা বক্তব্য। কিন্তু আসল খেলাটা তো খেলবেন দুই দলের ফুটবলাররা। আসল আকর্ষনের কেন্দ্রে তো তাঁরাই। তাই সামনে, পিছনে যেই থাকুক না কেন সবার অপেক্ষায় ছিল শনিবার সন্ধে সাড়ে সাতটা, যখন মাঠে নামল ভারতীয় ফুটবল দল ও ব্রাজিল ফুটবল দল। শুরু থেকেই ব্রাজিলের আক্রমণ দেখা গেলেও গোল পেতে তাদের লেগে গেল ২৮ মিনিট। তার মধ্যেই ভারতকেও দেখা গেল আক্রমণে উঠতে।
৬ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার কর্নার থেকে আপুইয়ার শট অল্পের জন্য বাইরে গেলে ফিরতি বলে ব্রাজিলের শটও গোলের মুখ খুলতে পারল না। ৮ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট আপুইয়াকে কাটিয়ে অল্পের জন্য বাইরে গেল। ঠিক তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেখাল ভারত, যখন উইলিয়ামস থেকে বল নিয়ে মনবীর সিং ঢুকে পড়েছিল বক্সে কিন্তু মারকুইনহোস তা ক্লিয়ার করে দিতে সমর্থ হয়। ১৫ মিনিটের মাথায় আবার একই মুহূর্ত তৈরি হল ব্রাজিল বক্সে। এবারও উইলিয়ামস থেকে বল নিয়ে মনবীর বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়লেও তা গোলে রাখতে পারলেন না। তবে এদিন মনবীরের লড়াই চোখে পড়ল। চোখে পড়ল অভিষেককেও। তাঁর উপরই দায়িত্ব ছিল ভিনিসিয়াসকে আটকানোর। পুরো প্রথমার্ধ খেলেও কিন্তু গোল করতে পারেননি ব্রাজিল তারকা।
২৮ মিনিটে এল সেই মুহূর্ত। যখন এস্তেভাও উইলিয়ান সামনে আশিক কুরুনিয়ানকে কাটিয়ে ভারতের জালে বল জড়ালেন। ৩৬ মিনিটে পেদ্রোর শট পোস্টে না লাগলে তখনই ২-০ হয়ে যেতে পারত ব্রাজিলের। কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময় নষ্ট করল না ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে গোলের মুখ খোলা এস্তেভাওয়েরই সেন্টার থেকে ২-০ করে গেলেন পেড্রো। বক্সের মধ্যে থেকে ফাঁকায় গোল লক্ষ্য করে শট নিলেন তিনি, যা ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংয়ের পায়ে লেগে চলে গেল গোলে। ভারত প্রথমার্ধ শেষ করল ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকে। আর যে ভিনিসিয়াসকে নিয়ে সব থেকে বেশি উন্মাদনা ছিল কলকাতায়, তিনি পুরো প্রথমার্ধ খেললেও গোল পেলেন না বরং দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর পরিবর্ত হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে গেলেন স্যামুয়েল নিনো।
পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণে দেখা গেল মনবীর, উইলিয়ামস জুটিকে। কতবার যে অল্পের জন্য ভারতের এই দুই ফুটবলারের গোলমুখি শট বাইরে গেল তার হিসেব নেই। তবে মনবীর, উইলিয়ামসের প্রচেষ্টাকে কোনওভাবেই হালকা করে দেখা যাবে না। তার মধ্যেই ৩-০ করলেন স্যামুয়েল লিনো। ৫৮ মিনিটে বিজয় ভার্গিসকে কাটিয়ে ভারতের জালে বল জরিয়ে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দিলেন স্যামুয়েল। ৪-০-ও করলেন তিনিই একদম শেষ বাঁশি বাজার আগে। এর পরও ব্রাজিল গোলের কাছে বার বার পৌঁছে গেলেন মনবীর, উইলিয়ামস কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারলেন না। এই ম্যাচের বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী ১১ জনকেই বদলাতে পারবেন কোচ। সেই মতো দ্বিতীয়ার্ধে পুরো দলই বদলে ফেললেন ভারতের কোচ খালেদ জামিল। বদলালেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি-ও।
ভারত — প্রথম একাদশ
গোলকিপার: গুরপ্রীত সিং সান্ধু/অধিনায়ক (প্রভসুখন সিং গিল)
ডিফেন্ডার: অভিষেক সিং (ভালপুইয়া), আনোয়ার আলি (মেহতাব সিং), বিজয় ভার্গিস (প্রমভীর), আকাশ মিশ্র (জয় গুপ্তা)
মিডফিল্ডার: অনিরুদ্ধ থাপা (ম্যাকারটন), আপুইয়া (রহিম আলি), মনবীর সিং (বিক্রম প্রতাপ সিং), সাহাল আবদুল সামাদ (এডমুন্ড), আশিক কুরুনিয়ান (মহম্মদ সানান)
ফরোয়ার্ড: রায়ান উইলিয়ামস (ফারুখ চৌধরী)
🇧🇷 ব্রাজিল — প্রথম একাদশ
গোলকিপার: পেদ্রো মরিস্কো
ডিফেন্ডার: মাতেউজিনহো, মারকিনিয়োস (অধিনায়ক), আর্থার দিয়াস, ডগলাস সান্তোস
মিডফিল্ডার: দানিলো, আন্দ্রে সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো
ফরোয়ার্ড: এস্তেভাঁও, পেদ্রো, ভিনিসিয়াস জুনিয়র
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
