মায়ের কাছে ফিরতে চান না ২৫ বছরের মেয়ে, কী রায় দিল Allahabad Highcourt

প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যায় না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad Highcourt)। আদালত স্পষ্ট করেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোথায় এবং কার সঙ্গে থাকবেন, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অবিবাহিত মেয়ে মানেই তাঁকে সব অন্যায় মেনে বাবা, মায়ের সঙ্গে থেকে যেতে বাধ্য করা যেতে পারে না। এই মামলার ক্ষেত্রে এমনটাই চেয়েছিলেন পূজার মা। যাতে সম্মত হননি পূজা। যে কারণে নিজের শহর ছেড়ে দূরে থাকতে শুরু করেন। তার পরই মেয়েকে আটকে রাখার মিথ্যে মামলা করে মেয়েকে নিজের কাছে ফেরাতে চেয়েছিলেন মা। কিন্তু আইনের চোখে তা টিকল না।

মামলাটি শুরু হয় মউ জেলার বাসিন্দা কলাবতী দেবী তাঁর ২৫ বছরের মেয়ে পূজাকে আদালতে হাজির করার আবেদন জানালে। মা বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ রিট দায়ের করে দাবি করেছিলেন, তাঁর মেয়েকে আদালতের সামনে হাজির করা হোক।


১৭ আগস্ট ২০২৬-এ এলাহাবাদ হাইকোর্ট রাজ্যের কাছে পূজাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। এরপর মউ জেলার ঘোসি থানার পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে।

আদালতের সঙ্গে কথা বলার সময় ২৫ বছরের পূজা জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় দিল্লিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন এবং কোনও ব্যক্তি তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রাখেননি। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতে চান না।

পূজা আদালতে অভিযোগ করেন, তাঁর মায়ের আচরণ তাঁর প্রতি ভালো ছিল না। তিনি দাবি করেন, পৈতৃক বাড়িতে থাকাকালীন তাঁকে একাধিকবার মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

অন্যদিকে, মা কলাবতী দেবী এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি চান, তাঁর মেয়ে আবার তাঁর সঙ্গে পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসুক।

মেয়ের বক্তব্য সরাসরি শোনার পর বিচারপতি সন্দীপ জৈন-এর আদালত দেখতে পায়, পূজা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সক্ষম ব্যক্তি এবং তিনি নিজের ইচ্ছায় মায়ের সঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২৮ সেপ্টেম্বরের আদেশে আদালত জানায়, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে শুধুমাত্র তিনি বাবা-মায়ের সন্তান—এই কারণে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কারও সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যায় না। আদালত আরও বলে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের বসবাসের জায়গা সম্পর্কে স্পষ্ট, স্বেচ্ছাসম্মত ও দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।

আদালতের মতে, হেবিয়াস কর্পাসের মূল উদ্দেশ্য হল কাউকে বেআইনি বা অবৈধভাবে আটক করে রাখা হলে তাঁকে সেই আটক থেকে মুক্ত করা। কিন্তু কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অন্যত্র থাকলে এবং বেআইনি আটকের প্রমাণ না থাকলে, তাঁকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এই আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যায় না।

শেষ পর্যন্ত কলাবতী দেবীর হেবিয়াস কর্পাস আবেদন খারিজ করে আদালত নির্দেশ দেয়, পূজা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিজের পছন্দের জায়গায় এবং নিজের পছন্দের ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করার জন্য স্বাধীন।

অর্থাৎ, এই রায়ের মূল বিষয় মেয়েকে মায়ের কাছ থেকে ‘কেড়ে নেওয়া’ নয়; বরং একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিজের জীবন ও বসবাস সম্পর্কে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google