Roadside Maggi Seller-এর গল্পে মুগ্ধ নেট দুনিয়া, বোঝালেন কোনও ব্যবসাই ছোট নয়

পাহাড়ের পথে বেড়াতে বেড়াতে রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চা, ম্যাগি খান না এমন লোকের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা। হিমাচলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তার ধারে ছোট্ট একটি খাবারের দোকান। মেনুতে মূলত ম্যাগি, চা এবং ডিম। এই পথে যাতায়াতের সময় প্রায় সকলেই গাড়িটা একবার এখানে থামান। কখনও কখনও এই ছোট্ট জায়গায় মানুষের ঢল নামে। অফসিজনেও তাতে খামতি নেই। আর এই ব্যবসা থেকেই প্রতিদিন প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিক্রি করছেন হিমাচল প্রদেশের রোহতাং পাসের এক চা, ম্যাগি বিক্রেতা (Roadside Maggi Seller)। তাঁর দৈনিক বিক্রির হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হর্ষ চৌহান রোহতাং পাসে গিয়ে ওই বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন। পর্যটন মরসুমের ব্যস্ততা থেকে শুরু করে অফ-সিজনে তাঁর ব্যবসা কেমন চলে, তা জানার চেষ্টা করেন তিনি। সেই কথোপকথনের ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন হর্ষ। ভিডিওতেই উঠে আসে বিক্রেতার প্রতিদিনের বিক্রির চমকপ্রদ হিসাব।


বিক্রেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ প্লেট ম্যাগি বিক্রি করেন তিনি। প্রতিটি প্লেটের দাম ১০০ টাকা। অর্থাৎ শুধু ম্যাগি বিক্রি থেকেই দৈনিক ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা আয় বা বিক্রি হয়।

তবে তাঁর দোকানের আয়ের অন্যতম বড় উৎস চা। প্রতিদিন প্রায় ২০০ কাপ চা বিক্রি করেন তিনি। প্রতি কাপ চায়ের দাম ৪০ টাকা। সেই হিসাবে চা বিক্রি থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৮,০০০ টাকা আসে। এর পাশাপাশি ডিমও আছে তালিকায়। ফলে ম্যাগি ও চায়ের বিক্রির সঙ্গে ডিমের বিক্রি যোগ হলে মোট টার্নওভার আরও কিছুটা বেড়ে যায়।

হর্ষ চৌহান তাঁর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে এই হিসাব তুলে ধরেছেন। ৬০-৭০ প্লেট ম্যাগি বিক্রি করে ৬,০০০-৭,০০০ টাকা এবং ২০০ কাপ চা বিক্রি করে ৮,০০০ টাকা। সব মিলিয়ে দৈনিক বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। ডিমের অর্ডার থেকে আসা টাকা এই হিসেবের মধ্যে ধরা নেই।

এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন একই পরিমাণ বিক্রি হলে মাসে মোট টার্নওভার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪.২ লক্ষ থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকা। তবে মনে রাখতে হবে, এটি মোট বিক্রির অঙ্ক, নিট লাভ নয়। ম্যাগি, চা, দুধ, চিনি, ডিম-সহ অন্যান্য উপকরণের খরচ, পরিবহণ, কর্মচারী এবং দোকান পরিচালনার খরচ বাদ দিলে প্রকৃত লাভের পরিমাণ কম হবে।

সাধারণত রোহতাং পাসে পর্যটকদের আনাগোনার উপরই স্থানীয় ব্যবসার অনেকটা নির্ভর করে। পর্যটনের ব্যস্ত মরসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে খাবার ও পানীয়ের চাহিদাও বেড়ে যায়। কিন্তু তুলনামূলকভাবে পর্যটক কম থাকা অফ-সিজনেও ওই বিক্রেতার দোকানে ক্রেতার অভাব হয় না বলে জানা গিয়েছে।

পাহাড়ের ঠান্ডা আবহাওয়ায় পর্যটকদের কাছে গরম চা এবং ম্যাগি অত্যন্ত জনপ্রিয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রোহতাং পাসে পৌঁছনোর পর অনেকেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গরম খাবার খেতে পছন্দ করেন। পর্যটকদের এই চাহিদাকেই কাজে লাগিয়েছেন ওই বিক্রেতা।

হর্ষ চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, অফ-সিজনেই যদি প্রতিদিন ১৪-১৫ হাজার টাকার বিক্রি হয়, তাহলে পর্যটনের পিক সিজনে এই অঙ্ক আরও অনেকটা বাড়তে পারে। কারণ পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাগি, চা এবং অন্যান্য খাবারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।

তবে পাহাড়ি এলাকায় ব্যবসা চালানো মোটেই সহজ নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, তুষারপাত, রাস্তার পরিস্থিতি এবং পর্যটন মরসুমের ওঠানামার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। বছরের সবসময় যে একই রকম বিক্রি থাকবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ছোট ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ব্যবসার আকার নয়, বরং সঠিক জায়গা নির্বাচন, ক্রেতার চাহিদা বোঝা এবং পরিষেবা দেওয়ার দক্ষতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

রোহতাং পাসের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে রাস্তার ধারের একটি ছোট্ট খাবারের দোকান থেকেও যে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ব্যবসা করা সম্ভব, এই ঘটনা তারই উদাহরণ। তাই ফের সামনে এসেছে জনপ্রিয় প্রবাদ—’No business is small’, অর্থাৎ কোনও ব্যবসাই ছোট নয়।

এক প্লেট ম্যাগি ১০০ টাকা, এক কাপ চা ৪০ টাকা। এই সামান্য দু’টি খাবারই যে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারে, রোহতাং পাসের এই বিক্রেতার গল্প তা আরও একবার বুঝিয়ে দিল।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google