ক্যানসার রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির খবর। দেশের একাধিক ক্যানসারের ওষুধের (Cancer Medicine) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA)-এর নতুন সিদ্ধান্তে ৫৪৩টি অ্যান্টি-ক্যানসার ওষুধের ব্র্যান্ডের সংশোধিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা MRP প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হবে ৯ নভেম্বর ২০২৬ থেকে।
NPPA-এর ট্রেড মার্জিন রেশনালাইজেশন (TMR) ব্যবস্থার আওতায় ১৩৭টি নন শিডিউল অ্যান্টি ক্যান্সার ড্রাগের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক মার্জিন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলির MRP বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য হল ওষুধের সরবরাহ-শৃঙ্খলে অস্বাভাবিক বেশি মার্জিন কমিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ কিছুটা হলেও রোগীদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগে ক্যানসার রোগী ও তাঁদের পরিবার বছরে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন।
NPPA প্রকাশিত তালিকায় বেশ কিছু বহুল ব্যবহৃত ক্যানসারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। তির মধ্যে রয়েছে:
– Anarzole (Anastrozole 1 mg): ১০টি ট্যাবলেটের দাম ৬৯৫.৭৬ থেকে কমে ৭৩।
– Azacytin (Azacitidine 100 mg injection): ৬,৩৩৭ থেকে কমে ১,৪৯৫.০৪।
– Bevacizab (Bevacizumab 100 mg/4 ml injection): ২১,৭৬৭.৭০ থেকে কমে ৫,৯৩০.১৩।
– Dasanat 20 (Dasatinib): ২,৮১২.৫০ থেকে কমে ১,০৮৫.৯৩।
– Debrumab 60 mg (Denosumab): ২২,০৩১.২৫ থেকে কমে ৫,৯৪১।
– Enuta (Enzalutamide): ৬,৫৭৮.২০ থেকে কমে ২,২৩২।
– ERLIB (Erlotinib): ৪,৬৩৭.৪৫ থেকে কমে ২,০০৮।
– FLUDANOX (Fludarabine): ১৪,২৩৫ থেকে কমে ২,৪৩২।
অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যাচ্ছ।
কেন্দ্রের বক্তব্য, বেশ কিছু নন-শিডিউল অ্যান্টি-ক্যান্সার মেডিসিনের ক্ষেত্রে সরবরাহ-শৃঙ্খলে অত্যন্ত বেশি ট্রেড মার্জিন দেখা গিয়েছে। NPPA-র বিশ্লেষণে গড় মার্ক-আপ প্রায় ১৭০ শতাংশ এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৭০০ শতাংশ বা তারও বেশি ছিল।
এই অতিরিক্ত মার্জিন কমাতেই TMR ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১৩৭টি ওষুধের ট্রেড মার্জিন এমারপি-র ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তালিকায় ইমিউনোথেরাপি-সহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে।
ক্যানসারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় একই ওষুধ একাধিকবার নিতে হয়। ফলে প্রতিবার ওষুধের দাম সামান্য কমলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের মোট চিকিৎসা খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ক্যানসারের ওষুধের দাম কমছে না। এই নতুন মূল্য মূলত NPPA-র তালিকাভুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রোগী বা পরিবারের সদস্যদের ওষুধ কেনার আগে সংশোধিত MRP যাচাই করা উচিত।
NPPA জানিয়েছে, সংশোধিত দাম ৯ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে নতুন দাম জানাতে হবে এবং খুচরো বিক্রেতা ও হাসপাতালগুলিকেও সংশোধিত দাম প্রদর্শন করতে হবে।
সরকার জানিয়েছে, গ্রাহকরা ফার্মা সহি দাম (Pharma Sahi Daam) অ্যাপ এবং NPPA-র ওয়েবসাইটে সংশোধিত দাম যাচাই করতে পারবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ক্যানসার চিকিৎসার খরচ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু MRP কমলেই হবে না—সেই সুবিধা বাস্তবে রোগীর হাতে পৌঁছচ্ছে কি না, সেটিও নজরে রাখতে হবে।
বিশেষ করে হাসপাতালগুলিতে ওষুধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পরীক্ষা, পরিষেবা ও অন্যান্য খরচ থাকে। তাই শেষ পর্যন্ত একজন ক্যানসার রোগীর মোট চিকিৎসা বিল কতটা কমছে, সেটিই হবে এই নীতির সাফল্যের বড় মাপকাঠি।
সারকথা, ৯ নভেম্বর থেকে ৫৪৩টি অ্যান্টি-ক্যানসার ব্র্যান্ডের সংশোধিত MRP কার্যকর হতে চলেছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ক্ষেত্রে ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের চিকিৎসার বিপুল খরচে চাপের মুখে থাকা বহু পরিবারের জন্য এই সিদ্ধান্ত কিছুটা আর্থিক স্বস্তি আনতে পারে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
