ACL 2 2026-27: শেষ ছয় মিনিটে জোড়া গোল হজম, জঘন্য ফুটবল খেলে আল সিবের কাছে হার ইস্টবেঙ্গলের

ACL 2 2026-27

সুচরিতা সেন চৌধুরী: এএফসি-তে দুরন্ত ফুটবল খেলছে ইস্টবেঙ্গল কিন্তু ফলের দিকে তাকালে তা বোঝা মুশকিল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু (ACL 2 2026-27)-এর গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ দুই পয়েন্ট। দুটো ড্র, একটা হার। আর সব ক্ষেত্রেই দারুণ ফুটবল খেলে কখনও আটকে যাওয়া, আবার কখনও হেরে যাওয়া। এই আল সিবের বিরুদ্ধেই গত ২৭ অক্টোবর তাদের ঘরের মাঠেও এগিয়ে গিয়ে ড্র করেছিল ইস্টবেঙ্গল। নিজেদের মাঠেও এগিয়ে গিয়ে হেরেছিল। আর এদিন সেই ভালো ফুটবলটাই অধরা থেকে গেল। পরের পর্বে যেতে হলে এই ম্যাচ জিতে থাকা খুবই জরুরী ছিল। কিন্তু খেলায় সেই ঝাঁঝ কোথায়? দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ ড্র করে, দুটো হোম ম্যাচে হেরে একরাশ হতাশায় ডুবে যাওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকল না ইস্টবেঙ্গলের। শেষ ছয় মিনিটে যেভাবে পর পর গোল হজম করে নিজেদের পরের পর্বে যাওয়ার রাস্তা প্রায় বন্ধ করে দিল তাতে আর কিছু আশা হয়তো করবেন না স্বয়ং হাবাসও। অঙ্কের হিসেবে হয়তো এখনই বিদায় বলা যায় না। কিন্তু পারফর্মেন্সের হিসেবে ডাহা ফেল।

ম্যাচের শুরুটা চেনা ছন্দেই করেছিল ইস্টবেঙ্গল, আক্রমণ আর সুযোগ নষ্টের মধ্যে দিয়ে। ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই যেভাবে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন রামিরেজ তাতেই এই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল। ১৭ মিনিটে সব থেকে বড় ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল যখন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। যদিও তার সুযোগ নিতে পারল না প্রতিপক্ষ আল সিব। যাহাই ইস্টবেঙ্গল, তাহাই আল সিব। ফুটবলের অঙ্কটাই মেলাতে পারল না কোনও দল। তার মধ্যেই সুযোগ নষ্টের প্রদর্শন চলল পুরো ম্যাচ জুড়ে। ভুল শুধরে অবশ্য শেষ হাসিটা হাসল আর সিব আর ইস্টবেঙ্গল তলিয়ে গেল নিজেদের ভুলের চোরাবালিতে।


২০ মিনিটে জয় গুপ্তার সেন্টার থেকে এডমুন্ডের শট বাঁচিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার ইব্রাহিম সালেহ। কিন্তু বলের দখল নিজের কাছে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে বিপিন  সিংয়ের ক্রস গোলমুখের কয়েক হাত দূর থেকেও বাইরে পাঠান রশিদ। এই মিসের ক্ষমা হয় না। হাবাসের দলের এমন ছন্নছাড়া ফুটবল আইএসএল-এও চিন্তায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। এক সঙ্গেই খেলতে হচ্ছে এএফসি আর আইএসএল। ক্লান্তি রয়েছে, তা বলে এভাবে জঘন্ন ফুটবল উপহার দেবে, তা কে ভেবেছিল।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ছিল গ্যালাসরির  হাজার ১১ সমর্থক। কিন্তু সেই প্রথমার্ধের চেনা ছবিই ফিরে এল দ্বিতীয়ার্ধেও। ৫৫ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির সেন্টার থেকে এডমুন্ড যেভাবে হেডে গোলের বদলে বল বাইরে পাঠালেন তা করতেও প্রতিভা লাগে। এখানেই শেষ নয়। এদিন এডমুন্ড, রামিরেজ, ডেভিডরা যেভাবে মিস করলেন তা হাবাসের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে নিশ্চিত। ৬০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে দলের হাল ধরার চেষ্টাও করলেন তিনি। ডেভিডের জায়গায় আকে লোবা ও বিপিনে জায়গায় হার্দিককে নামিয়ে ম্যাচে গতি আনার চেষ্টা করলেন। এটা ঠিক এলিন ডেভিড ও বিপিন দু’জনেই চূড়ান্ত হতাশ করলেন।

পরিবর্তনে খেলার গতি বাড়ল, আক্রমণও হল সঙ্গে গোল মিসের ধারাও অব্যহত থাকল।  ৬১ মিনিটে রামিরেজ আর ৬৩ মিনিটে এডমুন্ডের আবারও নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট তারই প্রমান। এর মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসে গিয়েছিল আল সিবের সামনেও। ইস্টবেঙ্গল গোলের নিচে ফূর্বা লাচেনপা যেভাবে একহাতে সেই সুযোগকে আটকালেন তা প্রশংসনীয়। ৭৬ মিনিটে গোল বাঁচিয়ে ৮৫ মিনিটে গোলহজম করে বসলেন ফূর্বা। হাসান আহমেদের পাস থেকে সন্দীপ মান্ডিকে ঘাড়ে নিয়েই গোলে শট নিলেন অ্যাক্সেল মেয়ে। তার ঠিক ছয় মিনিটের মাথায় যেভাবে একক দক্ষতায় বল টেনে নিয়ে গিয়ে ইস্টবেঙ্গল জালে বল জড়ালেন জাহির সুলেমান তাতে থমকে গেল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি।  শেষ হয়ে গেল সব আশা। বিদায় এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে এই ফুটবল নিয়ে আশাও দেখা যাচ্ছে না। কারণ বাকি দুটো ম্যাচ তো জিততেই হবে সঙ্গে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকে

ইস্টবেঙ্গল: পূর্বা লেপচা, লাল চুংনুঙ্গা, আনোয়ার আলি (সন্দীপ মাণ্ডি), দিয়েগো জ়িভুলিচ, জয় গুপ্ত, বিপিন সিংহ (হার্দিক ভাট), জিকসন সিংহ (রোহিত কুমার), মহম্মদ রশিদ, দানি রামিরেস, এডমুন্ড লালরিনডিকা (লুকাস জেলনস্কি)ও ডেভিড লালহানসাঙ্গা (আকে লোবা)।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google