আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফিরলেন, ফিরলেন স্বমহিমায়। এক্কেবারে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। তিনি বিরাট কোহলি। সঙ্গে দুরন্ত একটা ইনিংস শুভমান গিলের। এক কথায় অধিনায়কোচিত ঢংয়েই এদিন তিনি ব্যাট করলেন দলের দুই সিনিয়রতম ক্রিকেটারের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে। অনেকটা ছাপিয়েও গেলেন যেন। বলে গেলেন, ভারতীয় দলের লাগাম সঠিক হাতেই রয়েছে। ঠিক যেমনটা আগের দিনই বলছিলেন কোহলি তাঁর সম্পর্কে। যেন সিনিয়রের কথারই মর্যাদা রাখলেন শুভমান গিল। রবিবার তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিন ফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন অধিনায়ক গিল (India vs West Indies 1st ODI)। প্রথমে ব্যাট করে ভারতের সামনে ২৯৬ রানের চ্যালে়ঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল ক্যারেবিয়ানরা। তবে সহজেই সেই লক্ষ্যকে ছাপিয়ে গেল ভারত শুধুমাত্র টপ তিনের কাঁধে ভর করে। ৫০ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকল গিলের ভারত।
এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি এল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটেও। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ৬২রান করে আউট হওয়ার পর একাই লড়তে শুরু করেন আর এক ওপেনার জাস্টিন গ্রিভস। কারণ তার পরের দুই ব্যাটার তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিতে ব্যর্থ হন। জাস্টিন ১২টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১০৮ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। তিন ও চার নম্বরে নামা কেস কার্টি ১৩ ও অধিনায়ক শাই হোপ ১২ রান করে আউ হওয়ার পর দলের রানক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কিছুটা হলেও কাঁধে তুলে নেন আমির। জাঙ্গো। ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া জুয়েল অ্যান্ড্রু ০, রোস্টন চেস ২৪, ম্যাছু ফোর্দে ৭ রান করে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন গুদাকেশ মোতি। ৫০ ওভারে ৭ উইকটে ২৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এদিন ভারতের হয়ে বল হাতে দারুণ সফল কুলদীপ সিং। ১০ এভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। ২ উইকেট প্রসিধ কৃষ্ণার।১ উইকেট নেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। তবে এদিন উইকেট পাননি গুরনূর ব্রার, রবীন্দ্র জাডেজা ও নমন ধীর। ভারতের সামনে ছিল বিশাল রানের পাহাড়। প্রায় ৩০০ রান। নেহাতই কম নয়। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে সেটা বুঝতেই দিল না ভারতের টপ অর্ডার। ছক্কা হাঁকিয়ে যেমন নিজের সেঞ্চুরি সম্পূর্ণ করলেন, ঠিক একই ভঙ্গিতে ছক্কা হাঁকিয়েই দলকে জয় এনে দিলেন ৫৫ ওডিআই সেঞ্চুরির মালিক।এই দিন যতটা শুভমান গিলের, তার থেকে অনেকবেশি বিরাট কোহলির হয়ে থাকল।

এদিন ভারতের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। ৩২ রানে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর এক প্রান্ত থেক শুভমান আর অন্য প্রান্ত থেকে কোহলির আক্রমণে দিশেহারা দেখায় ক্যারিবিয়ান বোলারদের। রোহিত যখন ফেরেন তখন বোর্ডে ৭৪ রান। সেখান থেকে ভারের রানকে দ্বিতীয় উইকেটে ২২৫ রানে নিয়ে যান গিল-কোহলি জুটি। গিল যখন আউট হন ততক্ষণে জয়ের সরণিতে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে ভারত। তবে কোথাও কোনও আত্মতুষ্টি ছিল না ভারতের ব্যাটিংয়ে। ১০৮ বলে ১৩টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন শুভমান গিল।
বাকিটা ছিল কোহলির। ৮৮ বলে ১৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১০টি বাউন্ডারি ও ৯টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। এর সঙ্গেই ১৫ হাজার ওডিআই রানের লক্ষ্যমাত্রাও পেরিয়ে যান তিনি। ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। ৪১.৪ ওভারে ২ উইকেটেই ৩০০ রানে পৌঁছে যায় ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একটি করে উইকেটট নেন আলজারি জোসেফ ও রোস্টন চেস।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
