শীতের আগমন বার্তা আরও স্পষ্ট উত্তর ভারতের পাহাড়ে। কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী-সহ উত্তরাখণ্ডের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় শুরু হয়েছে তুষারপাত (Kedarnath Snowfall)। কেদারনাথে তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নেমে গিয়েছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর অবশিষ্ট প্রভাব এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
৩০ অক্টোবর, শুক্রবারও উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত। কেদারনাথ ধামে বৃহস্পতিবার নতুন করে তুষারপাত হয়েছে। সেখানে ০.৪ সেন্টিমিটার তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নেমে যায়। তুষারে রাস্তার কিছু অংশ বরফে ঢেকে যাওয়ায় যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কেদারনাথের পাশাপাশি গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী এবং বদ্রীনাথেও তুষারপাত হয়েছে। গঙ্গোত্রীতে মরসুমের প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য তুষারপাতের ফলে গোটা এলাকা সাদা চাদরে ঢেকে গিয়েছে। চামোলি জেলার বদ্রীনাথ, হেমকুণ্ড সাহিব, আউলি, নীতি ভ্যালি ও মানা এলাকাতেও নতুন করে তুষারপাত হয়েছে।
তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। গরম পোশাক, উলের টুপি, দস্তানা ও মোজা ব্যবহার করার পাশাপাশি ঠান্ডায় দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুধু তুষারপাত নয়, উত্তরাখণ্ডের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ৩০ অক্টোবর নৈনিতাল, চম্পাওয়াত, পিথোরাগড়, বাগেশ্বর ও চামোলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, দমকা হাওয়ার গতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা এবং ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
চারধাম যাত্রার ক্ষেত্রে হরিদ্বার-ঋষিকেশ থেকে রুদ্রপ্রয়াগ এবং রুদ্রপ্রয়াগ-কেদারনাথ রুটে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সতর্কতা বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ের পাশাপাশি উত্তর ভারতের সমতলেও আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন হয়েছে। দিল্লি, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও পঞ্জাবে বজ্র বিদ্যুৎসহ ঝড় এবং বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দিল্লিতে শুক্রবার সাধারণত মেঘলা আকাশ থাকবে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১৭ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।
হরিয়ানা, পঞ্জাব ও চণ্ডীগড়েও দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে থান্ডারস্কোয়াল হতে পারে।
পূর্ব উত্তরপ্রদেশে শুক্রবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিহারেও ৩০ অক্টোবর বিস্তৃত এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
ঝাড়খণ্ডেও বৃষ্টির পর্ব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকা, রাস্তা এবং কৃষিক্ষেত্রে জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবশিষ্ট প্রভাবের কারণে পশ্চিমবঙ্গেও গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
কলকাতায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩১ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিম সংলগ্ন পার্বত্য এলাকাতেও বৃষ্টির সঙ্গে ঠান্ডা বাড়তে পারে। Sub-Himalayan West Bengal ও Sikkim-এ ৩০ অক্টোবর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশ-ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দ্রুত দুর্বল হয়েছে। ২৯ অক্টোবর সিস্টেমটি মধ্য ছত্তিশগড় ও সংলগ্ন ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল এবং পরে Well Marked Low Pressure Area-তে পরিণত হয়। এরপর আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে সরে গিয়ে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এর সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার মিথস্ক্রিয়ার ফলে উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে অর্ণব দুর্বল হলেও তার জলীয়বাষ্প এবং সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া ব্যবস্থা দেশের বেশ কিছু অংশে প্রভাব ফেলছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের পর বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আগামী দিনগুলিতে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকালেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কেরল ও মাহেতেও নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
অরুণাচলপ্রদেশে ২৯ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাতেও ২৯ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে।
IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লি, হরিয়ানা ও চণ্ডীগড়ে ৩১ অক্টোবরের পর বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। ১ থেকে ৪ নভেম্বর উত্তর-পশ্চিম ভারতের ওই অংশে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ে তুষারপাতের ফলে উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ঠান্ডা আরও বাড়তে পারে। ফলে অক্টোবরের শেষেই উত্তর ভারতের পাহাড়ে শীতের আমেজ কার্যত জোরালো হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত এড়িয়ে চলা, নদী ও নালার কাছাকাছি না যাওয়া এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেদারনাথ-সহ চারধাম যাত্রার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
অর্থাৎ, একদিকে কেদারনাথ-সহ হিমালয়ে তুষারপাতের হাত ধরে শীতের আগমন, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির দাপট—অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বদলে গিয়েছে দেশের আবহাওয়ার চিত্র।
খবরের সূত্র: ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস ও ৩০ অক্টোবরের আবহাওয়া আপডেট।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
