ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। উত্তর ভারতের জন্য প্রস্তাবিত নর্দার্ন বুলেট ট্রেন করিডর (Bullet Train Corridor) তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে আগ্রা পৌঁছতে যেখানে বর্তমানে ট্রেনের ধরন অনুযায়ী বেশ কিছুটা সময় লাগে, সেখানে বুলেট ট্রেনে মাত্র ৫৯ মিনিটেই গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই প্রকল্পের অনুমোদনের কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর ভারতের এই বুলেট ট্রেন করিডরের অনুমোদন দিয়েছেন। এই হাইস্পিড রেল প্রকল্প উত্তর ভারতের বহু মানুষের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে।
রেলমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই করিডোর দিল্লি থেকে শুরু হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে দিয়ে এগোবে। সম্ভাব্য রুটে রয়েছে:
-
দিল্লি
-
আগ্রা
-
কানপুর
-
লখনউ
-
অযোধ্যা
-
বারাণসী
-
প্রয়াগরাজ
-
পটনা
-
শিলিগুড়ি
-
গুয়াহাটি
অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম পর্যন্ত বুলেট ট্রেন যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত এই সংযোগ উত্তর-পূর্ব ভারতের যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
রেলমন্ত্রীর দেওয়া সম্ভাব্য যাত্রার সময় অনুযায়ী সময়ের হিসেব—
| যাত্রাপথ | সম্ভাব্য সময় |
|---|---|
| দিল্লি–আগ্রা | ৫৯ মিনিট |
| দিল্লি–কানপুর | ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| দিল্লি–লখনউ | ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট |
| দিল্লি–বারাণসী | ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট |
| লখনউ–বারাণসী | ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট |
| বারাণসী–পটনা | প্রায় ১ ঘণ্টা |
| বারাণসী–প্রয়াগরাজ | ৩৩ মিনিট |
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুলেট ট্রেন করিডোর তৈরির ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পিলার থেকে গার্ডার পর্যন্ত বিভিন্ন পরিকাঠামো দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মীদের সাহায্যে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁর দাবি, এই প্রকল্পে দেশের যুবসমাজ, মাঝারি আয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। বুলেট ট্রেনের ভাড়া বিমানভাড়ার তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের অনুমোদনের ঘোষণা হলেও কবে নির্মাণকাজ শুরু হবে, কত টাকা খরচ হবে এবং কবে থেকে যাত্রী পরিষেবা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দিল্লি থেকে আগ্রা ৫৯ মিনিটে পৌঁছনোর বিষয়টি আপাতত প্রস্তাবিত যাত্রার সময় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই নর্দার্ন বুলেট ট্রেন করিডোর বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত এই হাইস্পিড রেল যোগাযোগ পৌঁছলে উত্তরবঙ্গের পরিবহণ ব্যবস্থাতেও তার ভিলো প্রভাব পড়বে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
